অস্ট্রেলিয়ার শুভ সূচনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে

স্পোর্টস: রেকর্ড গড়া জুটিতে দলকে লড়াইয়ের সংগ্রহ এনে দিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল মার্শ। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে লড়াই করলেন স্যাম বিলিংস। তবে জস হেইজেলউড ও অ্যাডাম জ্যাম্পার বোলিংয়ের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি ইংল্যান্ড। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ওয়ানডে লিগে শুভ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওয়ানডে ১৯ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল।

অস্ট্রেলিয়ার ২৯৪ রান তাড়ায় ৯ উইকেটে ২৭৫ রান করেছে ইংল্যান্ড। আগের সেরা অপরাজিত ৬৭ ছাড়িয়ে বিলিংস করেন ১১৮ রান। ম্যাচের শেষ বলে আউট হওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ১১০ বলের ইনিংসে ১৪টি চারের পাশে দুটি ছক্কা। অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় অবদান জ্যাম্পা ও হেইজেলউডের। প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দেওয়া লেগ স্পিনার জ্যাম্পা ৫৫ রানে নেন ৪ উইকেট, পেসার হেইজেলউড ৩ উইকেট নেন ২৬ রানে।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। চতুর্থ ওভারে জফ্রা আর্চারের ৯০ মাইল গতির ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে যান ডেভিড ওয়ার্নার। আরেক গতিময় পেসার মার্ক উড কট বিহাইন্ড করে বিদায় করেন টপ অর্ডারের অন্য দুই ব্যাটসম্যানকে। নিজের প্রথম বলে ফেরান অধিনায়ক ফিঞ্চকে। পরে থামান ঝড় তোলা মার্কাস স্টয়নিসকে। ৩৪ বলে খেলা তার ৪৩ রানের ইনিংস গড়া ৬ চারে। মিডল অর্ডারে ছোবল দেন আদিল রশিদ। থিতু হয়ে যাওয়া মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করার পর দ্রুত বিদায় করেন অ্যালেক্স কেয়ারিকে। ১২৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া সফরকারীদের ত্রাতা মার্শ ও ম্যাক্সওয়েল। ষষ্ঠ উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে সেরা জুটি উপহার দেওয়া এই দুই ব্যাটসম্যান খেলেন দুই মেজাজে। শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন ম্যাক্সওয়েল। তার পাল্টা আক্রমণেই সরে যায় চাপ।

অন্য প্রান্তে মার্শ ছিলেন আস্থার প্রতীক। তার ফিফটি আসে ৭৫ বলে, ম্যাক্সওয়েলের ৪৩ বলে। সময়ের দাবি ছিল বড় শট খেলার। সেই চেষ্টাতেই আউট হন ম্যাক্সওয়েল। আর্চারকে দুই ছক্কা হাঁকানোর পর পুনরাবৃত্তির চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে হয়ে যান বোল্ড। ৫৯ বলে খেলা তার ৭৭ রানের ইনিংস গড়া চারটি করে ছক্কা ও চারে। ভাঙে ১২৬ রানের জুটি। শেষ দিকে ফিরে মার্শকে বিদায় করেন উড। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের ৭৭ রানের ইনিংসে চার ছয়টি। একটি করে ছক্কা-চারে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংসে দলকে তিনশ রানের কাছে নিয়ে যান মিচেল স্টার্ক। দুই পেসার উড ও আর্চার নেন তিনটি করে উইকেট।

রান তাড়ায় ইংলিশদের শুরুতেই নাড়িয়ে দেন হেইজেলউড। জেসন রয়ের দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ মুঠোয় নেওয়ার পর কট বিহাইন্ড করেন জো রুটকে। ওয়েন মর্গ্যানের ঝড় শুরুতেই থামিয়ে দেওয়া জ্যাম্পা দ্রুত বিদায় করেন বিপজ্জনক জস বাটলারকে। ৫৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডকে টানেন বেয়ারস্টো ও বিলিংস। পরিস্থিতি বুঝে দুই ব্যাটসম্যানই গুটিয়ে রেখেছিলেন নিজেদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে শট খেলতে শুরু করেন তারা। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে এগোতে থাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। বেয়ারস্টো ও বিলিংসকে বিচ্ছিন্ন করতে পারছিল না অস্ট্রেলিয়া।

জ্যাম্পার হাত ধরে আসে সাফল্য। লেগ স্পিনারকে স্লগ করে লং অনে ধরা পড়েন বেয়ারস্টো। ভাঙে ১১৩ রানের জুটি। ১০৭ বলে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৮৪ রান করেন ইংলিশ ওপেনার। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। বাকি সময়ে প্রায় একাই লড়াই করেন বিলিংস। তবে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। আগামী রোববার একই ভেন্যুতে হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৯৪/৯ (ওয়ার্নার ৬, ফিঞ্চ ১৬, স্টয়নিস ৪৩, লাবুশেন ২১, মার্শ ৭৩, কেয়ারি ১০, ম্যাক্সওয়েল ৭৭, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১৯*, জ্যাম্পা ৫, হেইজেলউড ০*; ওকস ১০-০-৫৯-১, আর্চার ১০-০-৫৭-৩, উড ১০-০-৫৪-৩, মইন ১০-০-৫৯-০, রশিদ ১০-০-৫৫-২)
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭৫/৯ (রয় ৩, বেয়ারস্টো ৮৪, রুট ১, মর্গ্যান ২৩, বাটলার ১, বিলিংস ১১৮, মইন ৬, ওকস ১০, রশিদ ৫, আর্চার ৮*; স্টার্ক ১০-০-৪৭-০, হেইজেলউড ১০-৩-২৬-৩, কামিন্স ১০-০-৭৪-১, জ্যাম্পা ১০-০-৫৫-৪, মার্শ ৫-১-২৯-১, ম্যাক্সওয়েল ৩-০-১৯-০, স্টয়নিস ২-০-১৫-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জস হেইজেলউড

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *