অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে রড-সিমেন্টের দাম

এক্সক্লুসিভ: নির্মাণ সামগ্রী রড-সিমেন্টের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। ইতিমধ্যে দফায় দফায় রডের দাম বেড়ে এই পণ্যের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রডের পাশাপাশি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সিমেন্টের দামও। বিগত ২০০৭ সালে ভালো মানের (৬০ গ্রেডের ওপরে) এক টন রডের দাম ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। ওটাই দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত রডের সর্বোচ্চ দাম। সম্প্রতি রডের দাম বেড়ে ওই সময়ের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ভাল মানের এক টন রড কোম্পানি ভেদে এখন খুচরা পর্যায়ে ৭০-৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে নির্মাণ কাজে এক প্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছিল। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে রডের বিক্রি বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রডের দামও বেড়েছে। সব কোম্পানির রডের দামই টনপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বাজারে যে রড উৎপাদন হয় তার সিংহভাগ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। এমনকি চাহিদার তুলনায় কাঁচামালের ঘাটতিও রয়েছে। মূলত কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে রডের দাম বেড়েছে। রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামও বেড়েছে। কোম্পানি ভেদে বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১০-৫০ টাকা পর্যন্ত। সামনে সিমেন্টের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদকদের মতে, কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়াই হচ্ছে সিমেন্টের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। তার সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া দাম বাড়ার একটি কারণ।
সূত্র জানায়, রডের দাম গত অক্টোবর থেকেই বাড়তি। মাঝে দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাসখানেক ধরে রডের দাম নতুন করে আরো বেড়েছে। আর কোম্পানি ভেদে সিমেন্টের দাম প্রতি বস্তায় ১০-৫০ টাকা বেড়েছে। তাতে এখন কোম্পানি ভেদে এক বস্তা সিমেন্ট ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সিমেন্টের দাম প্রতি বস্তায় আরো ১০-২০ টাকা বাড়তে পারে।
এদিকে রডের দাম বাড়া প্রসঙ্গে বিএসআরএম স্টিলের কোম্পানি সচিব শেখর রঞ্জন কর জানান, রডের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া। করোনার কারণে রডের কাঁচামাল সরবরাহে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এখনো তার প্রভাব রয়ে গেছে। বাজারে কাঁচামালের যে চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় মালের ঘাটতি রয়েছে।’
একই প্রসঙ্গে আরএসআরএম স্টিলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মইন উদ্দিন জানান, রডের দাম ডিসেম্বরে এক দফা বাড়ে। মাঝে কিছুটা কমলেও সপ্তাহখানেক ধরে আবার দাম বেড়েছে। একটি পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অনেক কারণ থাকে। এখন রডের দাম বাড়ার ক্ষেত্রেও অনেক কারণ আছে। তবে রডের দাম বাড়ার মূল কারণ স্টেপ (রডের কাঁচামাল)। স্টেপের দাম বেড়ে গেলে রডের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী দীর্ঘদিন স্টেপ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বন্ধ থাকার কারণে স্টেপ সেভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি যারা স্টেপ নিজেরা বিক্রি করে, তারাও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্টেপ কিনেছে। যে কারণে ২৫-২৬ হাজার টাকার স্টেপের দাম ৪০-৪৫ হাজার টাকা হয়ে গেছে। স্টেপের এমন দাম বাড়ার কারণেই রডের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে সিমেন্টের দাম বাড়ার বিষয়ে আরামিট সিমেন্টের কোম্পানি সচিব সৈয়দ কামরুজ্জামান জানান, সিমেন্টের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া। বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। ওসব কারণেই এখন সিমেন্টের দাম বেড়েছে। সাধারণত যখন বৃষ্টি থাকে না তখন নির্মাণ কাজ বেশি হয়। তখন সিমেন্টের চাহিদাও বেড়ে যায়। ওই হিসেবে এখন বাজারে সিমেন্টের ভাল চাহিদা রয়েছে। তবে দাম বাড়ার পেছনে ওই চাহিদা বাড়ার সম্পর্ক নেই। মূলত কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে সিমেন্টের দাম বেড়েছে।

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *