আজ জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী

রফিকুল ইসলাম সুইট : কবির ভাষায়- শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে, রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে, অত:পর কবি–কে রোধে তাহাঁর বজ্রকন্ঠ বাণী: গণসুর্য্যরে মঞ্চ কাপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতা খানি“ এবারের সংগ্রাম- – স্বাধীনতার সংগ্রাম”। আজ ১৭ মার্চ সেই মহাকবি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে ব্যাপক উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে করোনা ভাইসার মুক্ত দেশ রাখতে সকল সকল উৎসব নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

বন্ধ করা হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দিবসটি উপলক্ষে পাবনা জেলা প্রশাসন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিম্ববিদ্যালয়, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ কলেজ, হাজী জসীম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসুচী গ্রহন করলেও সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে কর্মসুচী শিথিল করেছেন।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিশু মুজিব। পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুনের চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে। তার জন্য আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। জন্মদিনে এই মহান নেতাকে আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

কিশোর বয়সেই মুজিবের সংবেদনশীল হৃদয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। একদিকে সৎসাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানসিকতা, অন্যদিকে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, তাদের দুঃখ-দৈন্য লাঘবের সংকল্প তাকে অবধারিতভাবেই রাজনীতিতে নিয়ে আসে। স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তার মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতে দেখা যায়।

যতগুলো অর্থবহ আন্দোলন হয়েছে তার বেশির ভাগেরই কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ মুজিব। জেল জুলুম তাঁকে থামাতে পারেনি। শোষকদের রক্তচক্ষু তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের চারভাগের একভাগ সময় জেলে কাটিয়েছেন। তিনি ৫৪ বছরে জীবনে চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। জেলে গিয়েছেন, আবার জেল থেকে ফিরে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দেশমাতৃকার কাজে। তাঁর মতো আপোষহীন নেতা পৃথিবীতে বিরল। নিজের দেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্যে খুব কম নেতাই এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপর নতুন রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন মুজিব। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি। হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়।

১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার পক্ষে জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের আপামর জনগণ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছে বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। কিন্তু সেই সুযোগ বেশিদিন পাননি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের তপ্ত বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!