আটঘরিয়ায় অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর উপহার দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার আটঘরিয়া পৌরসভার কলেজপাড়া গ্রামের এক গৃহহীন অসহায় পরিবারের দুর্দশা ঘোচাল বাংলাদেশ পুলিশ। সুজাতা দাস দম্পতিকে নতুন ঘর উপহার দিলেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন ঘরের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান, বিপিএম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম খান, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তানভীর ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাফিজুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার, দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোহায়মীন হোসেন চঞ্চল, নবাগত একদন্ত ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন আলালসহ সাংবাদিক ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
নতুন ঘর পেতে বড় বাধা ছিল সুজাতা দাস ও কমল দাস দম্পতির নিজেদের কোনো জায়গা ছিল না। এ অবস্থায় সাহায্যের হাত বাড়ান আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তানভীর ইসলাম। নিজে আড়াই শতক জায়গা কিনে দিয়ে সেই সমস্যা দূর করলেন। চেয়ারম্যান দিলেন জায়গা, পুলিশ দিল নতুন ঘর, এভাবেই দুর্দশা দূর হলো অসহায় পরিবারটির।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপুত শ্রী মতি সুজাতা দাস বলেন, খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। তবে পেটের কষ্টের চেয়ে ঘরের কষ্ট ছিল অনেক বড়! কারণ ঝড়বৃষ্টিতে স্বামী-সন্তান নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ও পুলিশ আমাদের জন্য যা করল সেটি কোনো দিন ভোলার নয়। একসময় এলাকায় পুলিশ এলে খুব ভয় লাগত। ভয়ে ঘর থেকে বের হতাম না। আজ সেই পুলিশই আমাদের ঘর করে দিল। আমার পরিবারকে চির ঋণী করে দিলেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তানভীর ইসলাম জানান, পরিবারটির কষ্টের সীমা ছিল না। চেষ্টা করছিলাম সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘর করে দেওয়ার কথা বলা হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আড়াই শতক জায়গা তাদের কিনে দিই। তবু অসহায় পরিবারটি ভালো থাকুক।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অসহায় এই পরিবারটির খোঁজ পাওয়া যায়। পরে আইজিপি স্যারের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য একটি করে নতুন ঘরের তালিকায় আটঘরিয়া থেকে শ্রী মতি সুজাতা দাসের নাম পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সুপার স্যারের নিদের্শে বৃহস্পতিবার নতুন ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। হতদরিদ্র ওই পরিবারটি খুব খুশি হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *