আটঘরিয়ায় কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে বাড়ি ও ভাটা মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার আটঘরিয়ার সুতার বিলের তিন ফসলি জমির ওপরের অংশ (উর্বর মাটি, টপ সয়েল) কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা ও বাড়ির মালিকরা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষি ফসল উৎপাদন হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। উর্বর মাটি ইটভাটা বা বাড়ি নির্মানে চলে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন কমেছে। ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ। আইন অনুয়ায়ী, কৃষিজমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু এই উপজেলায় তা অমান্য করে অবাদে কাটা হচ্ছে মাটি। প্রশাসন জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ পত্র থেকে জানাযায়, উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের সুতার বিল নদীর পাড় কেঁটে অন্যত্র মাটি বিক্রি করছেন একই ইউনিয়নের জুমাইখিরি গ্রামের মো. জিয়াউর রহমান জিয়া গং। এ কারনে ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং কৃষি ফসল উৎপাদন হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কয়রাবাড়ী গ্রামের মো. আব্দুল মালেক বাদশা জানান, নদীর পাড় কাটার ফলে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকার ব্যপক ক্ষতি সাধিদ হচ্ছে। একই সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। এলাকার কয়েক শত একর ফসলি জমির সুতার বিল নদী গর্তে বিলীন হয়ে কৃষি উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে যাবে। ভেকু দিয়ে মাটি কাঁটা বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ বিপর্যয় এবং পাট, পিঁয়াজ, রসুন, গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ব্যঘাত সৃষ্টি হবে।

তিনি লিখিত অভিযোগে আরও বলেন কয়রাবাড়ী মৌজায় জুমাইখিরি গ্রামের মৃত-আবেদ আলী মৃধার ছেলে মো. জিযাউর রহমান জিয়া গং সুতার বিলের নদীর পাড় রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে যোর পূর্বক মাটি কেঁটে অন্যত্র বিক্রি করে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করছেন। এঘটনায় সুতার বিলের নদী পাড়ের সাধারন কৃষক জিয়া গংদেরকে নিষেধ করলে জিয়ার লোকজন বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন।

এলাকার কৃষক আবু তালেব বিশ্বাস, শামসুল প্রাং, তোফাজ্জল হোসেন এর সাথে কথা হলে তারা জানান, কয়রাবাড়ী, পাঠেশ্বর, ডেঙ্গারগ্রাম, জুমাইখিরি গ্রামের প্রায় ৮-১০ হাজার মানুয়ের বসবাস। সকল মানুষের এই সুতার বিলের পাড়ে কয়েক শত একর ফসলি জমি রয়েছে। ঐ এলাকার প্রভাবশালী জিয়ার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল কাউকে তোয়াক্কা না করে ভেকু দিয়ে এই সুতার বিলের দুই পাড়ের মাটি রাতের আধারে কেঁটে সাবাড় করছে। যার ফলে এখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ঠ হচ্ছে। বর্ষার মৌসুমে এই বিলের পাড় না থাকলে আমাদের ফসলির জমির ভিতরে কচুরিপানা সহ বিভিন্ন আবর্জনা ঢুকে পড়বে এবং ফসলের ব্য্পক ক্ষয়-ক্ষতি হবে। বর্ণ্যা আসার সঙ্গে সঙ্গে জমি ও জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। ফসল কোনো ভাবেই আবাদ করা যাবে না। পাট চাষিরা পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় নদীর দুই ধার ব্যবহার করেন।

এবিষয়ে আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ভেকু দিয়ে নদীর পাড়ের মাটি কাঁটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। সে যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আকরাম আলী বলেন, এবিষয়ে আমি অভিযোগ পাওয়ার পর পর পুলিশ দিয়ে ভেকু তুলে আনার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগকারিগণ ক্ষতি পুরনের দাবি করে মামলা করতে পারে। ক্ষতি সাধনের যে মামলা হয় সেই আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদেরকে ধরে এনে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জেল জরিমানা করা হবে। এদিকে ঐ এলাকার কৃষক ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *