আটঘরিয়ায় নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ করায় প্রার্থীকেই উল্টো হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার আটঘরিয়ার নাদুড়িয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দুটি পদে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠায় প্রার্থীরা জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগীরা। এদিকে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের কাছে চাকরী প্রার্থীদের টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার নাদুড়িয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো: জুয়েল রানা ঐ মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ পরিক্ষায় অংশ গ্রহনের আগেই সুপার ও সভাপতি সাড়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তার কাছ থেকে। বিনিময়ে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেবে তারা। চলতি মাসের ১৪ আগষ্ট নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেও তাকে চাকরী না দিয়ে মো: জান্নাত আলী নামের অপর এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাকে চাকরী দেন।

চাকরী প্রার্থী জুয়েল রানার অভিযোগ, তার দাদা মৃত শাহাদত আলী প্রাং এই মাদ্রাসার দাতা সদস্য ছিলেন। তার পরেও সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে সে চাকরী পাননি। তার অভিযোগ এখন সে এই টাকা ফেরত পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই দিনে আয়া পদেও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মো: আবুল বাশার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি নিজে টাকা নেননি তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টাকা নিয়েছেন বলে তিনি জানানে। তবে তিনি বলেন, ঐ প্রার্থীর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাদুড়িয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, জুয়েল রানা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন। কিন্তু তার চাকরী হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, চাকরী দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। তবে তিনি বলেন, দাতা সদস্য পরিবারের মধ্য থেকে চাকরী দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যে কোনভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আটঘরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম শাহজাহান আলী বলেন, বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরিক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সুপার বা সভাপতি কারো কাছ থেকে যদি টাকা নিয়ে থাকে তাহলে তাদের কাছে অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চাকরী দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে সভাপতি ও মাদ্রাসা সুপারের কাছে চাকরী প্রার্থীরা টাকা চাওয়া উল্টো তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলেছেন। চাকরী প্রার্থীর অভিযোগ চাকরী দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা নেয় মাদ্রাসার সভাপতি ও সপার। টাকা নিয়েছে এই প্রমাণও তার কাছে রয়েছে এবং এলাকার অনেকেই বিষয়টি অবগত। কিন্তু টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের উপর নানা কূৎসা রটনা করে চলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *