আটঘরিয়ায় হয়ে গেলা দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : টেবিলে প্লেটে থরে থরে সাজানো নানা রঙের পিঠা। পাকান, ভাঁপা, পুলি, চিতই, পাটিশাপটা, নকশি পিঠা, ফুল পিঠা, মাল পোয়া, রস পাকনসহ নাম না জানা হরেক রকম পিঠা। এ যেন রসের মেলা। নানা স্বাদের বাহারী এসব পিঠা দেখলেই মুখে জল চলে আসবে যে কারো।

সোমবার বিকেলে এমনই আয়োজন ছিল পাবনার আটঘরিয়া পৌর সদরের দেবোত্তর বাজারে পিঠা উৎসবে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও অষ্টমবারের মতো এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন হ্যাপী টেকনোলোজি পরিবার। যেখানে নানান স্বাদের প্রায় ৪শ’ রকমের পিঠা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন গৃহিণী, শিক্ষার্থী সহ অনেকে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নানা রকম পিঠা। যান্ত্রিক জীবনে নতুন প্রজন্ম কতটুকুই জানে না এসব পিঠার নাম। গ্রাম-বাংলার বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্যবাহি খাবার ধরে রাখা ও নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব।

ফিতা কেটে পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার মাশু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার জহুরুল ইসলাম, আটঘরিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, ইনডিপেনডেন্ট টিভির পাবনা প্রতিনিধি খাইরুল ইসলাম বাসিদ। পরে অতিথিরা পিঠার স্টল ঘুরে দেখেন।

উৎসবে বাহারী সব পিঠা দেখে মুগ্ধ নানা বয়সী দর্শনার্থী। গৃহবধূ সাবিনা খাতুন, শিক্ষার্থী রাইশা খাতুন জানান, উৎসবে এসে তারা নতুন নতুন পিঠার নাম জানতে পারেন। বাড়িতে গিয়ে ওইসব পিঠা বানানোর চেষ্টা করেন। এভাবেই গ্রামবাংলার পিঠাকে ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

বিভিন্ন নামের পিঠা তৈরী করে নিয়ে উৎসবে অংশ নেন গৃহিণী, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান। পিঠা উৎসব অংশগ্রহণকারী আনিকা খাতুন জানান, প্রতিবছর তিনি এই পিঠা উৎসবে অংশ নেন। এবারও তিনি  নিজেই সর্বোচ্চ ৬৫ রকমের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়ে উচ্ছসিত তিনি।

উৎসবে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩শ’ রকমের পিঠা নিয়ে অংশ নেন অর্ধ শতাধিক প্রতিযোগী। পরে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন অতিথিরা।

উৎসবের আয়োজক দেবোত্তর বাজারের হ্যাপি টেকনোলোজির পরিচালক আবু সাইদ জানান, বিলুপ্তপ্রায় নাম না জানা পিঠাগুলো নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করে দিতে ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এমন আয়োজন বলে জানান। অষ্টমবারের মতো এবার আয়োজন হলো। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার মাশু বলেন, এমন সুন্দর আয়োজন সত্যি ভাললাগার মতো। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে আমাদের সবাইকে ধরে রাখতে হবে। এজন্য আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনে পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।

আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন বলেন, শীতের সময়ে গ্রামের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহি খাবার এই পিঠা। অনেকেই বিদেশী খাবারের দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম। তাই গ্রামবাংলার সুস্বাদু খাবার পিঠাকে ধরে রাখতে এমন আয়োজন আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!