আটঘরিয়ায় ১২ দিন যাবত স্কুল বন্ধ ; কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াখেলা ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না। এতে গত ১২ দিন যাবত স্কুলে ক্লাস হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াখেলার ব্যাঘাত সৃষ্ঠি হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবী দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষিকার বিচার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আর তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবে না। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, সমস্যা দুরীকরণে ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে।

সরেজমিন মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ৭০ নং রতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল তিনজন শিক্ষক ছাড়া স্কুলে কোন শিক্ষার্থী আসেনি। কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানালেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা মোছা: সেলিনা খাতুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে বাগবিতন্ডার জের ধরে সভাপতি মুঞ্জুর রহমান, একজন শিক্ষকসহ মোট ৫ জনের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এতেই এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ও জেলা প্রশাসক বরাববর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্বারক লিপিও প্রদান করেন তারা।

পরে তারা প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা খাতুনের অপসারণ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানান। এর পর থেকেই স্কুলে আর শিক্ষাথীর্রা আসছে না।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র খায়রুল ইসলামের অভিভাবক শাহাদত হোসেন বলেন, দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা খাতুন যতক্ষন পর্যন্ত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবে না ততদিন স্কুলে তাদেও সন্তানদের পাঠাবেন না।

চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ইমা খাতুনের মা আরজিনা খাতুন বলেন, আন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবসে শহীদ মিনাওে একজন মৃুক্তিযোদ্ধাকেও ঐ প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামী অসাদাচরণ করেছে। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার মেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানান।

চাঁদভা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম কামাল বলেন, প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা খাতুন এই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের টাকা আত্নসাৎসহ ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে প্রায়ই অসাদাচরণ করে তাকে। এই শিক্ষিকার বিচার দাবী করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুম মনিরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর পরই তাকে ঐ স্কুল থেকে বদলী করা হয়েছে। তবে স্কুলে শিক্ষার্থী না আসার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সাথে বৈঠক চলছে। খুব দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।

আটঘরিয়া উপজেরা চেয়ারম্যান বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেন পড়াখেলায় কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *