আটঘরিয়া ও চাটমোহরে এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাবনার আটঘরিয়া ও চাটমোহরে সকল এনজিওকে ঋণের কিস্তি আদায় না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

সোমবার সকালে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। মাইকিং করা হয় সর্বত্র। করোনা থেকে বাঁচতে দোকানপাট ও চাস্টল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ব্যবসা অনেকাংশে বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে দিনমজুররা শ্রম বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ঋণগ্রস্থরা কিস্তি পরিশোধে হিমসিম খাচ্ছেন। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চাটমোহরের সকল এনজিওকে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

চাটমোহর থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সোমবার সকালে আটঘরিয়া উপজেলা পাবনার আটঘরিয়ায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তানভীর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফুয়ারা খাতুন। বক্তব্যদেন আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র ও আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম রতন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) উম্মে তাবাচ্ছুম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. রফিকুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: আব্দুল করিম, আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিদ, মাজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর মিয়া, চাঁদভা ইউপি চেয়ারম্যান ইন্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম কামাল, একদন্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাঈল হোসেন সরদার, দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাঈম্মীন হোসেন চঞ্চল, আটঘরিয়া প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো: জিল্লুর রহমান রানা প্রমুখ।

সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই। একসাথে বেশি মানুষের সমাগমের কারণেও করোনা ছড়াতে পাড়ে। তাই সকলকে কেনাকাটা থেকে শুরু করে সকল কাজে ঘরের বাহিরে কম বের হতে বলা হয়েছে। তাছাড়া করোনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে আর কিস্তি দিতে হবে না।

জানা গেছে, আশা, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, জাগরণী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, পিসিডিসহ অসংখ্য এনজিও ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব এনজিও থেকে মানুষ বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। সপ্তাহের ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিনই এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায় করা হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ বন্ধ হওয়ায় তারা কিস্তি দিতে পারছিলেন না। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই গরু-ছাগল পালন করছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গ্রামে এবং বাইরে কোথাও কাজের জন্য যেতে পারছেন না। অথচ এনজিওগুলোকে ঠিকই কিস্তি দিতে হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *