আম্ফানের ধ্বংসযজ্ঞের পর মমতা বললেন সবকিছুই নতুন করে গড়তে হবে

বিদেশ : করোনাভাইরাসের চেয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যের সবকিছুই এখন পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আম্ফানের এই ধ্বংসযজ্ঞ সামলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরা খুবই কঠিন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের রাজধানী কলকাতার বিভিন্ন জেলা আম্ফানের আঘাতে একেবারে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে আছড়ে পড়েছে।

এটা কল্পনাও করা যায় না। আম্ফান এমন তা-ব চালাবে তা আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা ধারণাও করতে পারেন নাই। আম্ফানের তা-বের পর বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মমতা বলেন, এখন পর্যন্ত আম্ফানের তা-বে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে খবর এসেছে। তবে এই সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন হতে পারে।

আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে মমতা বলেন, আমাদেরকে সবকিছুই পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করবো, দয়া করে এটা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। আমরা মানবিক সহায়তা চাই। তিনি বলেন, উত্তর এবং ২৪ পরগনা জেলা একেবারে ধ্বংস হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় জেলায় কাঁচাপাকা ৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে।

সেখানে কোনও কিছু অবশিষ্ট নেই। আমাদেরকে সবকিছু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ের চোখ ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে কলকাতায় আছড়ে পড়েছে। বুধবার দুপুর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে।

দুপুরের দিকে বাতাসের গতিবেগ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার থাকলেও আঘাত হানার সময় ১৪০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে ওডিশ্যা প্রদেশে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে একটি সুপার সাইক্লোন আঘাত হেনেছিল। এবারে আম্ফানের তা-ব সেই সাইক্লোনের ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে কলকাতায়।

ওই বছর ওডিশ্যায় সাইক্লোনটির আঘাতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তবে বুধবারের এই সুপার সাইক্লোন শক্তি হারিয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশ্যায়।

মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, আম্ফান যে তা-ব চালিয়েছে তাতে এর ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে ধ্বংসের চিত্র বুঝতে ১০ থেকে ১২ দিন লেগে যাবে। এক দিনে এই ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র গতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়ার সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *