আর নয় যুদ্ধ’ স্লোগানে উত্তাল ওয়াশিংটন

বিদেশ : ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের কমান্ডার মে. জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে ইরাকে হামলা চালিয়ে হত্যার পর পাল্টা প্রতিশোধের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে আমেরিকা! সামরিক বিশ্লেষকরা সহসা দেশ দুটির মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন না ঠিকই তবে উড়িয়েও দিচ্ছেন না একেবারে।

এদিকে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানে জবাব দেওয়ার জন্য দেশটি ইরানের ৫২টি লক্ষ্যবস্তু ইতোমধ্যে বেছে রেখেছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে দেশটি পাঠিয়েছে ৩ হাজার সেনা। যা পরিস্থিতিকে জটিল করছে ক্রমশ।

এ উত্তেজনা যেন যুদ্ধে রূপ না নেয় তার জন্য ‘আর নয় যুদ্ধ’ স্লোগানে সড়কে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা। এই স্লোগানে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও দেশটির বিভিন্ন শহরে।

রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও বিভিন্ন শহরে ইরাকে বিমান হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় ৩ হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন সাধারণ মানুষ। এসময় তারা ‘আর নয় যুদ্ধ, আর নয় যুদ্ধ’ স্লোগান দেন। হাজারো বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের দিকে যাওয়ার আগে ‘নো জাস্টিস, নো পিস, ইউএস আউট অব দ্য মিডল ইস্ট’ স্লোগানও দেন। একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরেও।

ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারীরা গানের সুরে ‘যুদ্ধ নয় কিংবা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়’ এবং ‘ইরাক ছাড়ো যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা’ স্লোগন দেন। পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করেন অভিনেত্রী জেন ফনডা। ৮২ বছর বয়সী এ নারীও অংশ নিয়েছিলেন বিক্ষোভে।

তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে তরুণ যারা আছেন তাদের অবশ্যই জানা উচিত যে, যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই হয়েছে তেলের জন্য। আমরা এই তেলের জন্য মানুষের মৃত্যু, ভোগান্তি বা পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবেই চাই না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্টিভ লেন নামের অপর একজন বলেন, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি মানে এই নয় যে, আমি অনেক কিছু করে ফেলেছি। এটা আসলে তেমন কিছুই নয়।

তবে, আমি এখানে এসেছি এতটুকু বলতে যে- ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যা ঘটছে আমি তার বিরোধীতা করছি। সম্ভবত বহু মানুষ যদি এভাবে প্রতিবাদ করে তবে তিনি (ট্রাম্প) হয়তো শুনবেন। গত বৃহস্পতিবার ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের কমান্ডার মে. জেনারেল কাসেম সোলেমানি। এসময় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির উপ-প্রধান মাহদি আল মুহান্দিসসহ ৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *