আল কুরআন বিস্ময়কর মহাগ্রন্থ

॥ ফখরুল ইসলাম মাসুদ ॥
‘শপথ বিজ্ঞানময় কুরআনের’। আল কুর’আনের হৃদপিন্ড হিসেবে বর্ণিত সুরা ইয়াসীনের দ্বিতীয় আয়াত। মহাগ্রন্থ আল-কুর’আনের বিজ্ঞানময়তার উপলব্ধি করতে মানবজাতিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে সুদীর্ঘ চৌদ্দশ’ বছর। বিজ্ঞানের বিপুল অগ্রগতির ধারাবাহিক পরিক্রমায় কেবলমাত্র বিংশ শতাব্দীতে এসেই মহাগ্রন্থ কুর’আনে বিধৃত বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যের দলিল উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। অজ্ঞতার চরম ঘোর অমানিশায় পরিব্যাপ্ত কুসংস্কার, অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর কুপমন্ডুকতার আবর্তে আরব জাতি যখন নিমজ্জিত ছিল তখন একজন আরবী নির র নবী বললেন’’ (হে মুহাম্মদ) বল, কুর’আনের মত করে অনুরূপ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে মানব মন্ডলী এবং জ্বীন জাতি সম্মিলিতভাবে পরস্পর সহযোগিতা করেও যদি চেষ্টা চালায়, তবুও তারা তা করতে সমর্থ হবে না” (১৭.৮৮)। কিংবা ‘বল, আমার প্রভুর বাণীসমূহ লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবুও আমার প্রভুর বাণীসমূহ শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র শেষ হয়ে যাবে, যদিও অনুরূপ সমুদ্রকে সাহায্যের জন্য আবারো আনা হয় (তাও শেষ হয়ে যাবে, অথচ তখনও আল্লাহর বাণী শেষ হবে না) (সুরা আল কাহাফ, আয়াত-১০৯)”। অথবা ‘‘যদি তাদের (মানুষ ও জ্বীন জাতি) এ বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে গোটা কুর’আন তো দূরের কথা, কুর’আনের অনুরূপ দশটি আয়াতও যদি পারে তা হলে যেন তা’ রচনা করে দেখায়”। চৌদ্দশ’ বছর পূর্ব হতে অদ্যাবধি পৃথিবীতে আগত শত শত কোটি মানুষের নিকট মহান রাব্বুল আলামিনের এই উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ অবারিত রয়েছে। কত অনারব-আরবী ভাষী জ্ঞানী, গুণী, বিজ্ঞানী, বিদূষী-কবি-সাহিত্যিক অতিক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু অব্যাহত ব্যর্থতায় তাঁরা সকলেই নিঃক্রান্ত হয়েছেন। কারণ, এ যে ২০০০০ (বিশ হাজার) বিলিয়ন আলোকবর্ষে বিস্তৃত মহাবিশ্বের সৃষ্টি কর্তা, লালন কর্তা মহান আল্লাহর বাণী (প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশী হাজার মাইল বেগে ধাবিত আলোকরশ্মি এক বছর মেয়াদে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে এবং এক বিলিয়ন হচ্ছে একশত কোটি)। এর কোন ব্যত্যয় নেই এর কোন পরিবর্তন নেই। আর এর হেফাজতকারীও তিনিই। আল্লাহ বলেন ‘নিশ্চয়ই এ কুর’আন আমি অবতীর্ণ করেছি আমিই এর হেফাজত করব’ (সুরা হিজর, আয়াত-৯)।
আল কুর’আনের অভ্যন্তরীণ বিনির্মাণও অত্যন্ত বিস্ময়কর। রাসূলে আকরাম (সাঃ) এর উপর সুদীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার টুকরো টুকরো তাৎপর্য প্রতিফলিত যে আয়াত, আয়াতগুচ্ছ কিংবা সুরা অবতীর্ণ হয়েছে, যে আয়াতগুলো নাজিলের জন্য আল্লাহর মহান ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আঃ) চব্বিশ হাজার বার পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, বর্ণনাতীত অবিন্যস্ত সেই কুর,আন এর শাব্দিক ও সংখ্যার বুনন আপনাকে বিমোহিত না করে পারবে না। সম্প্রতি সুপারকম্পিউটার লব্ধ গবেষণা থেকে দেখা গেছে বর্তমান বিশ্বের প্রায় পাঁচশ’ কোটি মানুষ যদি হুবহু পবিত্র কুরআনের মত করে সমশব্দে সমবাক্যে ও সংখ্যায় সমান সংখ্যক অক্ষরে অনুরূপ তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্যের একখানা কুর’আন রচনায় প্রয়াসী হয় তা’হলে ৬২৬*১০২৪ অর্থাৎ ৬২৬-এর পরে ২৪টি শূন্য বসিয়ে যে অচিন্তনীয় বিরাট সংখ্যা পাওয়া যাবে এই ৫০০ কোটি মানুষের সম্মিলিতভাবে তত বছরের প্রয়োজন হবে। এই অকল্পনীয় বিরাট সময়ের মধ্যে হয়ত একটিবারের মত এ কুর’আনের মত একটি গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব হতে পারে যা’ নিতান্তই অতীব অসম্ভব। এ তথ্যগত আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই মহান রাব্বুল আলামিনের উল্লেখিত চ্যালেঞ্জের সত্যতা প্রতিভাত হচ্ছে। কুর’আনে বর্ণিত কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী কিভাবে পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়ে এর নিরঙ্কুশ সত্যতাকে প্রতিপন্ন করেছে সেদিকে দৃকপাত করা যাক। রাসুলে আকরাম (সাঃ)-এর ইসলাম প্রচারের সময় পৃথিবীতে দু’টি পরাশক্তি বিদ্যমান ছিল। একটি রোমান অপরটি পারসিক। রোমানরা প্রধানতঃ খ্রিষ্টান তথা আহলে কিতাবধারী (যাদের উপর ঐশী কিতাব নাজিল হয়েছে তাদেরকে তাহলে কিতাব বলে), কিন্তু পারসিকরা ছিল পৌত্তলিক তথা অগ্নিপূজক। ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই দুই সুপার পাওয়ারের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে রোমান বাহিনী ব্যাপক পরাজয়বরণ করে এবং অগ্নিপুজক পারসিকরা জয়লাভ করে। আহলে কিতাবধারীদের এই পরাজয়ে (যেহেতু মুসলমানরাও কিতাবধারী) নবদীক্ষিত মুসলমানগণ দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়েন। নওমুসলিমদের মনে সাহস সঞ্চারের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা ভবিষ্যদ্বাণী সংবলিত ওহী নাজিল করেন ‘রোমান বাহিনী নিকটবর্তী ভূমিতে (ইরানে) পরাজয়- বরণ করেছে, এবং তাদের এই পরাজয়বরণের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই আর সেইদিন মুমিনগণ হর্ষোৎফুল্ল হবে’ (সুরা আর-রূম, আয়াত-২, ৩, ৪)। ঔর্ধ্রমরহ মতর্ দণ ঈহড়টর্ভধভণর্ ্রর্টণ-এ উল্লেখিত হয়েছে, যে রোমান বাহিনী ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে পারসিকদের নিকট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল এবং যুদ্ধের সকল ফ্রন্টে পারসিকদের প্রচ- দাপট পরিলক্ষিত হয়েছিল এবং সমসাময়িক মানুষের মধ্যে এই বোধের জাগৃতি ঘটেছিল যে, পারসিকরা অপরাজেয়। মাত্র নয় বছরের ব্যবধানে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে সেই পারসিকরা রোমান বাহিনীর নিকট শোচনীয়ভাবে আরমেনিয়ার যুদ্ধে পরাজয়বরণ করে এবং পারসিকদের সমগ্র বাইজাইনটাইন সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং এভাবেই পবিত্র কুর’আনে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুর’আনের সুরা মুদ্দাচ্ছির-এর ৩০ নং আয়াতে বলেন, ‘ইহার উপরে আছে উনিশ’। ইসলামের প্রথম যুগে এই ‘উনিশ’কে উনিশজন বিশেষ ফেরেশতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু সম্প্রতি লেবাননের অধিবাসী ডঃ রশিদ খলিয়া মিশরী সমগ্র কুর’আনকে কম্পিউটার-এ সেট করে এই উনিশ সংখ্যার বিস্ময়কর তত্ত্ব উদঘাটন করেছেন। কুর’আনের বিন্যাসে, বিভাগে ও কাঠামোয় উনিশ এক অবোধগম্য শৃংখলায় শৃংখলিত। হেরা গুহায় রমজান মাসে ধ্যানমগ্নতায় রাসুলে আকরাম (সাঃ)-এর উপর প্রথম যে ওহী নাজিল হয়েছিল তা ছিল সুরা আলাক-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত যা’ পরবর্তীতে উনিশটি আয়াতে সমাপ্ত হয়। কুর’আনের শেষের দিকের অবস্থান থেকে এর অবস্থিতি ১৯-এ। এই সুরার পরে নাজিলকৃত পরিপূর্ণ দ্বিতীয় সুরা ফাতিহা। এর প্রথম আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। এই বিখ্যাত আয়াতটির অক্ষর সংখ্যা উনিশ। আবার এই আয়াতের মূল চারটি শব্দ যথা ইসম, আল্লাহ, রাহমান ও রাহীম। এই শব্দগুলি সমগ্র কুর’আনে যতবার ব্যবহৃত হয়েছে তা’ প্রত্যেকেই পৃথকভাবে উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন ইসম শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে উনিশবার যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। ‘আল্লাহ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ২৬৯৮ বার যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য (২৬৯৮ Ñ ১৯=১৪২) আর রাহমান শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৫৭ বার যা’ উনিশ দ্বারা বিভাজ্য এবং আর রাহীম শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ১১৪ বার যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। কুর’আনের মোট সুরার সংখ্যা ১১৪টি যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। ১১৩টি সুরার প্রথমে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাক্যটি ব্যবহৃত হয়ে ১৯ দ্বারা অবিভাজ্য হলেও অন্য একটি সুরাতে দুইবার উক্ত বাক্যটি ব্যবহৃত হয়ে উনিশ দ্বারা বিভাজ্যতাকে প্রতিপন্ন করেছে।
পবিত্র কুর’আনে কিছু সুরার শুরুতে কিছু হরফ রয়েছে। যার পৃথক কোন অর্থ নেই। এই অক্ষরগুলোকে হরফে ‘মুয়াত্তালাত’ বলে। যেমন আলিফ, হা, বা, সীন, সোয়াদ, তোয়া, আইন, কাফ, ক্কাফ, লাম, মীম, নূন, হা, ইয়া। এই চৌদ্দটি বর্ণের সাহায্যে আলিফ লাম মীম, আলিম লাম রা, হা মীম, তোয়া সীন, ইয়া সীন, তোয়া হা, সোয়াদ, নূন, ক্কাফ, আলিফ লাম মীম সোয়াদ, আইন সীন ক্কাফ, তোয়া সীন মীম, ক্কাফ হা ইয়া আইন সোয়াদ, আলিফ লাম মীম রাÑএই চৌদ্দটি হরফ বা হরফগুচ্ছ মোট ২৯টি সুরায় ব্যবহৃত হয়েছে। এখন পৃথকভাবে অক্ষর, অক্ষরগুচ্ছ এবং ব্যবহৃত সুরার সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় (১৪+১৪+২৯)= ৫৭ যা উনিশ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। এই কোড অক্ষর বা হরফে মুয়াত্তালাত এর অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, কোন সুরা যখন এই কোডের অক্ষর বা অক্ষরগুচ্ছ দ্বারা শুরু হয় তখন সেই সুরার মধ্যে কোডে ব্যবহৃত অক্ষর বা অক্ষরগুলো যতবার ব্যবহৃত হয় সেই সংখ্যাটি পৃথকভাবে সকল সময়ই উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। এবং সমষ্টিগতভাবেও উনিশ দ্বারা বিভাজ্য। একটি সুরার মর্মবাণী ছন্দ বাক্য বিন্যাস ঠিক রেখে শব্দ সমষ্টির মধ্যে ব্যবহৃত উক্ত কোড অক্ষরগুলো সমষ্টিকে বিস্ময়কর উনিশ-এর বাঁধনে শৃংখলিত করা কতই না অকল্পনীয় বিস্ময়কর।
সুরা ক্কাফ-এ ‘কাওমে লূত’ সম্পর্কে ১২টি স্থানে উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু সুরাটির ১৩ নং আয়াতে কওমে লূত-এর পরিবর্তে ‘ইখওয়ানে লূত’ শব্দটি ব্যত্যয়তার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। ১১টি স্থানে কওমে লূত উল্লেখ করলেও শুধু মাত্র একটি স্থানে ইখওয়ানে লূত ব্যবহারের কারণ কিন্তু সাধারণ নয়। বিষয়টি অসাধারণ এবং বিস্ময়কর। কাওম শব্দের পরিবর্তে ইখওয়ান শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে সুরার প্রথমে ব্যবহৃত কোড অক্ষর ‘ক্কাফ’-এর মোট সংখ্যা ৫৭-তে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। যদি সুরার ১২টি স্থানেই কাওমে লূত ব্যবহার করা হত তাহলে ক্কাফ-এর সংখ্যা দাঁড়াত ৫৮, যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য নয়। তাহলে ভেঙ্গে পড়ত কোড অক্ষরের অন্তর্নিহিত বিশেষত্ব। একটি স্থানে ইখওয়ান শব্দের উল্লেখের মাধ্যমে ক্কাফ-এর সংখ্যা ৫৭-তে নির্দিষ্ট করে ১৯ সংখ্যার সঙ্গে কোড সংখ্যার নিঃসীম অবোধ্য শৃংখলা বজায় রেখেছেন। এরকম বিস্ময়কর শৃংখল কুর’আনের অগণিত স্থানে ছড়িয়ে আছে। এ ব্যাপারে আরো একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা সমীচীন হবে। সুরা আরাফ-এর কোড অক্ষর আলিফ লাম মীম সোয়াদ, সুরা মারইয়াম-এর কোড অক্ষর ক্কাফ হা ইয়া আইন সোয়াদ, সুরা সা’দ-এর কোড অক্ষর সোয়াদ। এই তিনটি সুরার মধ্যে কমন কোড অক্ষর সোয়াদ। সুরা আরাফ-এর ৬৯ নং আয়াতটিতে ব্যবহৃত ‘বাসতাতান’ শব্দটিতে সোয়াদ অক্ষর ব্যবহার আরবী ব্যাকরণের পরিপন্থী। এই শব্দটির মূল বিশুদ্ধ বানানে সীন অক্ষর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু সুরাটি যখন নাজিল হয় তখন ওহী লেখকগণ গতানুগতিকভাবে বাসতাতান শব্দটি লিখতে সীন অক্ষর ব্যবহার করতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবী (সাঃ) নির র হয়েও এই শব্দটি সীন এর পরিবর্তে সোয়াদ লিখতে নির্দেশ দেন। বিষয়টি আরবী ব্যাকরণের রীতিবিরুদ্ধ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে অবহিত করলে তিনি বলেন এর ব্যাপারে আমার কোন করণীয় নেই কারণ স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত জিব্রাইল ফেরেশতা পাঠিয়ে এভাবে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে এই যে, যদি উক্ত বাসতাতান শব্দে সীন এর পরিবর্তে সোয়াদ অক্ষর ব্যবহার করা না হত তাহলে সোয়াদ কোড অক্ষর সংবলিত উল্লেখিত তিনটি সুরায় ব্যবহৃত মোট সোয়াদের সংখ্যা হত ১৫১ যা উনিশ দ্বারা অবিভাজ্য। বাসতাতান শব্দটিতে সীন এর পরিবর্তে সোয়াদ ব্যবহার করায় উক্ত তিনটি সুরায় ব্যবহৃত সোয়াদ এর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫২ যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। মহা বিস্ময়কর বৈকি! কুর’আন-এ যদি সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্জন ঘটতো তবে অশুদ্ধ বানান-এর বাসতাতান শব্দটির শুদ্ধতা আনয়ন প্রথমেই ঘটত। কিন্তু তা হয়নি। বিগত ১৪০০ বছর ধরে ভুল বানানেই শব্দটি মহাবিশ্বয়কর উপলব্ধি নিশ্চিত করার জন্য অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। যেহেতু আল্লাহ ঘোষণা করেছেন তিনিই এর হেফাজত করবেন। এর থেকে উত্তম হেফাজতের নমুনা আর কোথাও আছে কি?
অতি সম্প্রতি ডঃ তারিখ আল সুওয়াইদান আল কুরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক একটি বিস্ময়কর গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। অনেক সংখ্যাতাত্ত্কিতার মধ্যে দু’একটি বিষয়ের উল্লেখ প্রাসঙ্গিক হবে। মহাগ্রস্থ আল কুরআন এ আল শাহ্র (অর্থাৎ মাস) শব্দটি সর্বমোট ব্যবহৃত হয়েছে ১২ বার। ১২ মাসেই যে এক বছর হয় তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনের মাধ্যমেই নিশ্চিত করেছেন। আল কুরআনে আল ইয়াওম (দিন) শব্দটি সর্বমোট ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬৫টি বার। কি বিস্ময়কর! আবার আল বাহার (সমুদ্র বা জলভাগ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৩২ বার এবং আল বার (ভূমি বা স্থল ভাগ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ১৩ বার। স্থল এবং জল-এর বিপরীতে মোট ব্যবহৃত শব্দের সংখ্যা ৩২+১৩=৪৫ বার। এই ৪৫ বারের মধ্যে ১৩ বার স্থল এবং ৩২ বার জল বোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অনুপাত যথাক্রমে ১৩/৪৫*১০০%=২৮.৮৮% এবং ৩২/৪৫*১০০%=৭১.১১% যা পৃথিবীতে বিদ্যমান স্থলভাগ ও জলভাগের পরিমানকে সঠিকভাবে প্রতিপাদিত করে। এই মহাগ্রন্থ আল কুরআনের পরতে পরতে বিস্ময়কর অলৌকিকত্ত্ব ছড়িয়ে আছে। আল্লাহ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন ‘আকাশ মন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে যা মানুষের হিত সাধন করে তা সহ সমুদ্রে বিচরনশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ হতে যে বারিবর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করনে তাতে এবং তারমধ্যে যাবতীয় জীব জন্তুর বিস্তারনে, বায়ুরদিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে রয়েছে জ্ঞানবানদের জন্য নির্দশন (সুরা বাকারা, আয়াত-১৬৪)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *