ইঁদুরের ছড়ানো ভাইরাসে ৭০ জনের মৃত্যু

বিদেশ : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। চীনের বাইরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হংকং, ফিলিপাইন ও জাপানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৮৩ জনে।

করোনা মহামারির মধ্যে এদিকে ইঁদুর থেকে ছড়িয়ে পড়া লাসা জ¦রে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার তিনটি প্রদেশে লাসা জ¦র ভয়াবহ আকারে ধারণ করেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটির তিন প্রদেশে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্ডো, ডেলটা ও কাদুনা রাজ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী নতুন করে লাসা জ¦রে আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝির তুলনায় নাইজেরিয়ায় লাসায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

এখন পর্যন্ত মোট ৪৭২ জনের লাসা জ¦রে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা বলছেন, খাবার, মলমূত্র ও গৃহস্থালি জিনিসপত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে লাসা জ¦র ছড়ায়। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই জ¦র প্রাণঘাতী নয়। এতে আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথা, মুখে ঘা, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়।

এ ছাড়া এই জ¦রে আক্রান্ত রোগীর অনেক সময় হার্ট ও কিডনি অচল হয়ে যায়। লাসা জ¦রে আক্রান্ত রোগীকে ৬ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত আলাদা স্থানে রাখতে হয়। কারণ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলেই অন্যান্যের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, লাসা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দিকে চিকিৎসার জন্য এন্টিভাইরাল রিবাভিরিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় মাত্র ৫টি ল্যাবরেটরি স্থাপন করে এই রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ১৯৬৯ সালে উত্তর নাইজেরিয়ার লাসা শহরে প্রথম শনাক্ত করা হয় বলে এ রোগের নাম দেয়া হয়েছে লাসা। ইবোলা ও মারবার্গ ভাইরাসের গোত্রভুক্ত লাসা জ¦র। তবে এর ভয়াবহতা কম।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *