ইউনিভার্সাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান মোবারক হোসেন রত্নের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

পিপ (পাবনা) : আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্যুটার ইউনিভার্সাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান মোবারক হোসেন রত্নের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। এ উপলক্ষে পাবনার দিলালপুর মসজিদ, রত্নদ্বীপ রিসোর্ট, রূপকথা ইকো পার্ক, রূপকথার কাব্যতে বাদ আসর পৃথক ভাবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠি হয়। ২০০৭ সালের ১৯ মার্চ তিনি সিঙ্গাপুরে ইন্তেকাল করেন।

মোবারক হোসেন রত্ন ১৯৫৭ সালের ২০ জানুয়ারি পাবনা শহরের দিলালপুর মহল্লায় জন্ম গ্রহন করেন। বাবার নাম মরহুম মোকাররম হোসেন ছিলেন পাবনা শহরের বুনিয়াদি ব্যবসায়ী। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা মোকরম হোসেন শহীদ হন।

১৯৭২ সালে মোবারক হোসেন রত্নের পাবনা জেলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে। ১৯৭৫ সালে তিনি সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন করেন। মরহুম মোবারক হোসেন রত্ন ছোটবেলা থেকেই ছিলেন পরিশ্রমি ও মেধাবী। মেধা, শ্রম আর কর্মদক্ষতা দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন বহু প্রতিষ্ঠান।

তার মালিকানাধীণ পাবনার অনন্ত ও রুপকথা সিনেমা হল এক সময় ছিল বিনোদনের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এরপর পাবনা সিরাজগঞ্জে কয়েকটি সিনেমা হল, ইউনিভার্সাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ, ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেডসহ বেশকিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদ। বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ জাতীয় শ্যুটিং ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। এক যুগেরও বেশী সময় পাবনা রাইফেল ক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা রোটারী ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের ডেলিগেট ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি ক্লে পিজিয়ন জাতীয় শ্যুটিং এ বাংলাদেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হন এবং গোল্ড ম্যাডেল পান।

১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলগত গোল্ড মেডেল এবং একক ব্রোঞ্জ পদক অর্জণ করেন। তিনি সব সময় দুস্থ অসহায় মানুষের পাশে থাকতেন। তাদের পুনর্বাসনে তিনি ছিলেন সক্রিয়। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ ও কর্মপুরুষ। ২০০৭ সালের ১৯ মার্চ তিনি দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিক। দিবসটি ইউনিভার্সাল গ্রুপসহ তার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পালন করে। সকালে মরহুমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

এছাড়া ইউনিভার্সালের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী কোরআন তেলোয়াত, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *