ইনস্টাগ্রামে শিশু বিক্রি, ইরানে গ্রেপ্তার তিন

আইটি: তেহরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হোসেনি রাহিমি বলেন, বিক্রির তালিকায় থাকা শিশু দুটির মধ্যে একটি শিশুর বয়স ২০ দিন, অন্যটির দুই মাস। শিশু দু’টিকে সর্বোচ্চ পাঁচশ মার্কিন ডলারে কিনে পুনরায় দুই থেকে আড়াই হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি করতো দলটি–খবর বিবিসি’র। গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, “তিনি গরীব পরিবার থেকে শিশু নিয়ে, একটি ভালো ভবিষ্যত গড়ে দিতে পারবে, এমন পরিবারের কাছে শিশু হস্তান্তর করছিলেন।” রাহিমি বলেন, “ইনস্টাগ্রামে শিশু বিক্রির বিজ্ঞাপন” বিষয়ে আগেই সতর্ক ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

রাহিমি আরও বলেন, কর্মকর্তারা ইনস্টাগ্রামে এ ধরনের ১০ থেকে ১৫টি পাতা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক সেবা সংস্থার কাছে শিশু দু’টিকে হস্তান্তর করেছে তারা। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি স্বীকার করেন, “সামান্য অর্থের” বিনিময়ে গরীব পরিবার থেকে শিশুগুলো কিনেছেন তারা। সংবাদ সংস্থা ইয়ং জার্নালিস্ট’স ক্লাবের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি বলছেন, “এর মাধ্যমে শিশুগুলো একটি ভালো ভবিষ্যত পেতে পারতো।”

ইরানে শিশু বিক্রির এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির গরগান অঞ্চলে চার নারী এবং এক পুরুষকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। দরিদ্র গর্ভবতী নারী খুঁজে বের করে তাদের হাসপাতাল খরচ দিচ্ছিলো দলটি। জন্মের পর শিশু নিয়ে বিক্রি করছিল তারা। “গর্ভবতী অনেক মা তাদের শিশু বিক্রি করছেন” বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের উইমেন’স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহিনদখত মোলাভের্দি।

দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি, বাল্য বিবাহ এবং গৃহহীনতাসহ অনেক কারণে নারীরা এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন মোলাভের্দি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *