ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

বিদেশ: ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চান। তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে চান ট্রাম্প।

দু’বছর আগে ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যে উত্তেজনা সে বিষয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমন্বয়ে এক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সম্ভবত ওই সম্মেলনে অংশ নেবেন না। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাব। আগামী সপ্তাহে আপনারা তা দেখতে পাবেন। মাত্র একদিন আগেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেরর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে ১১টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে। আর এর পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট পড়েছে দু’টি করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ডোমিনিকান রিপাবলিক প্রস্তাবটির পক্ষে এবং চীন ও রাশিয়া এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি কোনো দেশ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শুক্রবার রাতে অনলাইনে নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা পরিষদে এভাবে হেরে যাওয়ার পরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে মার্কিন মিত্রদের অবস্থান থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা মিত্রহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের পরমাণু ইস্যুতে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে আপনারা দেখবেন কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে বার বার ইরানের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন কূটনীতিকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে হয়তো খারাপ সময় আসছে।

তাদের এমন পদক্ষেপ যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ওই কর্মকর্তা ইরান পরমাণু চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *