ঈদের নামায সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং উত্তর

ধর্মপাতা: ঈদের নামায ওয়াজিব হওয়ার জন্য কি কি শর্ত প্রযোজ্য ? খুতবা ব্যতীত জুমু‘আর নামাযের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য ঈদের নামাযের জন্য ঠিক সেসব শর্তই প্রযোজ্য। আর ঈদের নামাযে খুতবা পাঠ করা হলো সুন্নত। তবে ইমাম সাহেব খুতবা পাঠ করলে মুসল্লীদের জন্য তা শ্রবণ করা ওয়াজিব।- আদদুররুল মুখতার ৩/৪৫।

ঈদের নামায আদায়ের সুন্নাহ পদ্ধতি কি ?

ঈদের নামাযের পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে প্রদত্ত হলো-

# প্রথমে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরিমা বাধবে।
# এরপর সানা পাঠ করবে।
# এরপর নামাযের তাকবীরে তাহরিমার ন্যায় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলবে এবং হাত ছেড়ে দিবে। এরপর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা পরিমাণ সময় বিলম্ব করে পুনরায় হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলবে এবং হাত ছেড়ে দিবে। এরপর তৃতীবারের মত আবার হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত বাধবে।
# এরপর আউযু বিল্লাহ, বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতেহা ও কিরাত পাঠ করে রুকু সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করবে।
# এরপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও কিরাত পাঠ করে প্রথম রাকাতের ন্যায় অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবে। এখানে তৃতীয় তাকবীর বলার পরও হাত ছেড়ে রাখবে। এরপর রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে যাবে।
# এরপর সেজদা বৈঠক করে যথা নিয়মে রাকাত শেষ করবে।
(হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ ৫৩২-৫৩৩)

ঈদের নামাযের খুতবার বিধান কি?
ঈদের নামাযের শেষে দুই খুতবা পাঠ করা সুন্নত। এই খুতবা মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে পাঠ করা সুন্নত। দুই খুতবার মাঝখানে জুমু‘আর খুতবার ন্যায় তিন আয়াত পাঠ পরিমাণ বসা সুন্নত। উপস্থিত শ্রোতাদের এ খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। দূরত্বের কারণে খুতবা না শুনতে পেলে চুপ করে কান লাগিয়ে রাখা ওয়াজিব।
(হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ ৫৩৪-৫৩৫)

কোনো ব্যক্তি যদি ঈদের নামায এক রাকা‘আত না পায় তাহলে সে ওই নামায কীভাবে আদায় করবে?
কেউ যদি ঈদের নামাযে এক রাকা‘আত না পায় তাহলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর সে দাঁড়িয়ে ছানা, আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়বে অতঃপর সূরা ফাতেহা পড়ে অন্য সূরা মিলাবে। এরপর অতিরিক্ত তাকবীরসমূহ বলবে।

অতঃপর রুকু করে বাকি নামায আদায় করবে।(মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৫৩৪, ফাতাওয়া সিরাজিয়্যা; পৃষ্ঠা ১৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১২/৪২৮)

জুমু‘আর খুতবা দেওয়া ও শ্রবণ করা ওয়াজিব। আর ঈদ ও বিবাহের খুতবা দেওয়া সুন্নাত। এখন প্রশ্ন হলো, ঈদ ও বিবাহের খুতবা শ্রবণের হুকুম কী?
জুমু‘আর খুতবা শ্রবণ করা যেমনি ওয়াজিব তদ্রুপ বিবাহ ও উভয় ঈদের নামাযের খুতবা শ্রবণও ওয়াজিব। যদিও ঈদের নামায ও বিবাহে খুতবা প্রদান করা সুন্নাত।
(আদদুররুল মুখতার ৩/৩৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৭৩, ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৬৭৭, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১২/৩৪৮)

খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখার হুকুম কী?
খুতবার সময় হতে লাঠি রাখা সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ। যেহেতু মুয়াক্কাদাহ নয় তাই মাঝে মাঝে তরক করতে পারবে।
(সুনানে আবূ দাউদ; হাদীস ১০৯৬, রদ্দুল মুহতার ২/১৬৩, হাশিয়াতুত ত্বাহত্বাবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৫১৪, ইমদাদুল আহকাম ২/৩৫০)

যদি কোনো খতীব সাহেব পায়ে প্রচ- ব্যথা থাকার কারণে বসে বসে খুতবা পাঠ করে তাহলে খুতবা আদায় হবে কি না?
জুমু‘আ ও দুই ঈদের খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়া সুন্নাত। অবশ্য কোনো ওযরের কারণে দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে খুতবা দেওয়ার অবকাশ আছে। কিন্তু ওযর ব্যতীত বসে খুতবা দেওয়া সুন্নাত পরিপন্থি ও মাকরূহ।

(বাদায়িউস সানায়ে’ ১/৫৯২, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৬৫, মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৫১৫, ফাতহুল কাদীর ২/৫৬-৫৭, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১২/৪১১)
যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের জামা‘আত না পায় তাহলে কি একাকী ঐ নামাযের কাযা আদায় করতে পারবে?

যদি এক বা একাধিক ব্যক্তি ঈদগাহে গিয়ে দেখে ঈদের জামা‘আত শেষ হয়ে গেছে তাহলে তারা ঐ এলাকায় ঈদের নামায পড়বে না। একাকীও না, জামা‘আত-বদ্ধভাবেও না।

তবে এমন এলাকায় গিয়ে ঈদের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করতে পারবে যে এলাকায় এখনো ঈদের নামায পড়া হয় নি।- রদ্দুল মুহতার ২/১৭৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১-১৫২, হাশিয়াতুত ত্বাহত্বাবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৫৩৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬২৩, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১২/৪৬৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১৬৯।

জুমু‘আর দিন ঈদ হলে জুমু‘আর নামায পড়বে না কি যোহরের নামায পড়বে? জুমু‘আ এবং ঈদের নামায উভয়টিই পৃথক পৃথক ওয়াজিব। একটি আদায় করার দ্বারা অপরটি কারো যিম্মা থেকে রহিত হবে না।

সুতরাং জুমু‘আ এবং ঈদ উভয়টাই আদায় করা জরুরি।- সূরা জুমু‘আ; আয়াত ৯, সুনানে নাসাঈ; হাদীস ১৪২৩, আলবিনায়াহ ৩/৩৫০, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৩/৩৯৮।

বর্তমানে ঈদের নামায এবং জুমু‘আর নামাযের খুতবার পূর্বে যে বয়ান করা হয় তার শরঈ বিধান কী? ঈদের নামায এবং জুমু‘আর খুতবার পূর্বে বয়ান করা জায়েয আছে। বরং ইলমে দীন সম্পর্কে জনসাধারণের অজ্ঞতার যুগে বয়ান করাটাই উত্তম।

সাহাবা যুগে এ রকম বয়ান-আলোচনার নযীর রয়েছে। তবে সময়ের প্রতি খতীব সাহেবদের লক্ষ্য রাখা উচিত। (মুসতাদরাকে হাকেম (মাকতাবায়ে শামেলা সংস্করণ) ১/৩৯০, ৫/২৪৫, ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৫৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১৪০)

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *