ঈশ্বরদীতে ট্রেন থেকে প্রতিদিন ৬ লক্ষ টাকার তেল চুরি

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে : পাবনার ঈশ্বরদীর কয়েকটি গোডাউনে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রেল ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে চুরি করা হাজার হাজার লিটার ডিজেল। প্রতিদিন অন্তত সাতটি ট্রেনের চলন্ত ইঞ্জিন থেকে বিশেষ কায়দায় চুরি করা হয় এসব তেল। ট্রেনের কয়েকজন চালক, সহকারী চালক, রেলওয়ে পুলিশ ও রেল শ্রমিকলীগের কয়েকজন নেতার যোগসাজশে এই তেল চুরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে চুরি করা তেলের টাকার ভাগ পুলিশ, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে বেশ কয়েক স্থানে বন্টন করা হয়ে থাকে। শহরের হিন্দুপাড়া বেনারসি পল্লীর সামনে, ফতেমোহাম্মদপুর নাজিম উদ্দিন স্কুলের পার্শ্বে এমএস কলোনীর মোড়ে ও একই এলাকায় আরও একটি তেলের গোডাউন গড়ে তুলে প্রকাশ্যে এই তেল পাইকারি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। এর বাইরে ঈশ্বরদী পৌরসভার একজন কাউন্সিলরের ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে আলাদা চোরাই তেলের গোডাউন। রেলের তেল চুরি নিয়ে একাধিকবার র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে তেল চোরদের অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। তবে জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা আবারও রেলের ইঞ্জিনের তেল চুরিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন আন্তঃনগর সিল্কসিটি, পদ্মা এক্্রপ্রেস, চিত্রা এক্সপেস, সিমান্ত এক্সপেস, পাবনা এক্সপেস ও কমিউটারসহ সাত-আটটি ট্রেনের চলন্ত ইঞ্জিন থেকে নিয়মিত তেল চুরি করা হয়। এসব ট্রেন ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে মাঝগ্রাম স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে এলে গতি কমিয়ে চলন্ত ইঞ্জিন থেকে তেল নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি ইঞ্জিন থেকে পাইপ লাগিয়ে মোটা পলিথিনের বিশেষ ডাবল বস্তায় ভর্তি করে রাখা হয় তেল। এভাবে ১০ থকে ১২ বস্তা তেল চুরি করা হয়। প্রতিটি বস্তার ধারণক্ষমতা ৩০ থেকে ৫০ লিটার। ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে তেলের বস্তা নির্দিষ্ট গোডাউনে নিয়ে যায়। এরপর ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ি সরবরাহ করা হয়ে থাকে বিভিন্ন দোকানে।
ঈশ্বরদী রেলের সহকারী চালক ও ঈশ্বরদী শাখা রেল শ্রমিকলীগের যুগ্ন সম্পাদক আহসান উদ্দিন খান আশা বলেন, আগে তেল চুরি হতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এখন ইঞ্জিনে ফুয়েল চেকিং ডিভাইস বসানো হয়েছে, লোকোসেডে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ফলে ইঞ্জিন অথবা লোকোসেড থেকে তেল চুরি করা খুবই কঠিন কাজ।
রেলওয়ে ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি নিয়ে প্রশ্ন করলে ঈশ্বরদী রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আসলাম উদ্দিন খান মিলন বলেন, তেল চুরির সঙ্গে রেলওয়ে শ্রমিকলীগের কোনো তো জড়িত নয়। এসব বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি সুবির দত্ত জানান, ঈশ্বরদীতে আমি যোদানের পর থেকে রেল ট্রেন থেকে তেল চুরির কোন ঘটনা হয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই লোকো) হাসানুজ্জামান বলেন, ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি বন্ধ করার দায়িত্ব আমার নয়, ওটা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেল পুলিশের দায়িত্ব। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয় হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *