ঈশ্বরদী ও বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন বৃহস্পতিবার

পিপ (পাবনা) : বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) পাবনার বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর এ উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামীলীগের রেজাউল হক বাবু (নৌকা), বিএনপির মো. রইজ উদ্দিন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আলী আহাদ (লাঙল) ও আওয়ামীলীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আফজাল হোসেন (আনারস)। তবে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আফজাল হোসেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র পাঁচদিন আগে ৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি ঘোষণা দিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানান।

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকাসহ সারা দেশের মানুষের তেমন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু বেড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে ঘিরে উপজেলাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহল। এর একটি হলো- দীর্ঘদিন পর বিএনপি এ উপজেলায় প্রার্থী দিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা মনে করছেন এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই বিএনপির নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠায় উপজেলায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ। বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘এই উপনির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানীয় সমস্যা থাকলেও এখন পর্যন্ত ভোট দেওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এমন অবস্থা বজায় থাকলে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিত হবেন। আমার কর্মী-সমর্থকেরা প্রচ- উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে কাজ করছে।’

আওয়ামীলীগের প্রার্থী রেজাউল হক বাবু বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, বেড়ায় এবার নির্বাচনী আমেজ বইছে। মানুষজন বিপুল উৎসাহ নিয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছে। এই এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত উন্নয়ন করেছেন যে মানুষ নৌকা ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার চিন্তাও করছে না।
ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আজ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ, চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গণনার পর জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে। কিন্তু প্রচারণার শেষ মূহুর্তেও নির্বাচনের মাঠ উত্তাপহীন। ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সরব প্রচারণা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। মাঠে নেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ।

গত ২ এপ্রিল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ মারা যান। এরপর আসনটি শুন্য ঘোষনা করা হয়। শুন্য ঘোষণার পর করোনার কারণে বর্ধিত সময়ে ২৬ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস। নিয়মানুযায়ী মনোনয়ন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।

নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস। বিএনপির প্রার্থী ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির (একাংশের) সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গাউসুল আজম।

প্রচার-প্রচারনায় আওয়ামীলীগ সরব থাকলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর প্রচারনা তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। আওয়ামী লীগ গণসংযোগ থেকে শুরু করে নিয়মিত মাইকিং এবং পোষ্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালালেও ওই দুই দলের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ, মাইকিং করতে ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখা যায়নি। দুয়েকটি ইউনিয়ন এলাকায় ধানের শীষের পোষ্টার দেখা গেলেও পৌর এলাকায় পোষ্টার চোখে পড়েনি। তবে লাঙ্গলের কোথায়ও পোষ্টার চোখে পড়েনি।

ঈশ্বরদী নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে এ তথ্য জানা যায়, পৌরসভা ও সাত ইউনিয়ন নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা। উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭৬ ও নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯২১ জন। ভোট কেন্দ্র ৮৪টি।

বিএনপি’র প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা থাকায় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় মাঠে তেমন নেই কেউ। আজমল হোসেন সুজন দলীয় নয়, হাবিবুর রহমান হাবিব সমর্থিত প্রার্থী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর আলী বিশ্বাস। অপরদিকে পৌর বিএনপির (একাংশ) যুগ্ম আহবায়ক এস এম ফজলুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কোনো কিছুই জানায়নি কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি। এমনকি যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনিও আমাদের সাথে এখনও যোগাযোগ করেননি। কেন্দ্রীয় এবং জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে যে নির্দেশনাই থাকতো আমরা তা পালন করার চেষ্টা করতাম।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহন নিশ্চিত করার জন্য র‌্যাব, অতিরিক্ত পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরে টহলে থাকবেন। আনসার, ভিডিপি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, পাবনার বেড়া ও ঈশ্বরদীর চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১০ সেপ্টেম্বর বেড়া উপজেলা পরিষদর চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় এবং ঈশ্বরদীর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস পদত্যাগ করায় পদ দুটি শূন্য হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *