ঈশ্বর ভাবনা

মোঃ মোনায়েম খাঁন :
মানুষের মধ্যে কখন, কোথায়, কিভাবে ঈশ্বর ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল তার কোন সু-নিদৃষ্ট তথ্য প্রমান পাওয়া যায় না। তারপরেও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ঈশ্বর ভাবনা ও বিশ্বাস কাজ করে আসছে।ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ ঈশ্বর ভাবনা ও বিশ্বাসের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। অবশ্য নানা ধর্ম গ্রন্থ নানা মত প্রকাশ করলেও সকল ধর্মে মূল সংজ্ঞায় একটি চমৎকার মিল খুজে পাওয়া যায় তা হল ঈশ্বর,ভগবান, গড,আল্লাহ, যে কোন সংস্কৃতির মানুষ যে নামেই বিশ্বাস করুক না কেন প্রত্যেকের মধ্যেই একই বিশ্বাস যে তিনি অদৃশ্য ও সকল শক্তির এবং ক্ষমতার উৎস।

তিনি বিশ্ব জগতের স্রোষ্টা, লালনকর্তা,পালনকর্তা ইত্যাদি ইত্যাদি।ধর্ম সম্পর্কে সমাজ বিজ্ঞানের মতে, মানুষের যখন পৃথিবীতে প্রথম আর্বিভাব ঘটে আনুমানিক প্রায় পয়ত্রিশ-ছত্রিশ লক্ষ বছর আগে,জীব বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞানের ভাষায় কিংবা ল্যাটিন ভাষায় মানুষদের হোমোস্যাপিয়ান বলা হত। এই হোমোস্যাপিয়ানরা নানা প্রাকৃতিক প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে নিজেদেরকে খাপ খায়েই টিকে থাকে।বিবর্তনের ধারায় মানুষের উর্বর মতিস্ক ও মনোজগতের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি ঘটতে থাকে। সহজ উপায়ে শিকার কৌশল উৎভাবন, চিত্র অঙ্কন, শারিরীক ভাষার ব্যবহার, কথ্য ভাষা,বর্ণ ইত্যাদি আবিস্কার মানুষকে নতুন দিনের আলোর পথ দেখাতে শুরু করল। মানুষ আরো আরো অনুসন্ধিৎসু হতে শুরু করল।

মানুষ প্রাকৃতিক শক্তির অনুসন্ধান শুরু করল। কিন্তু প্রাকৃতিক শক্তির কোন হদিস খুজে পায় না তখন বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে প্রাকৃতিক শক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে বিশ্বাস করে প্রার্থনা শুরু করল। এভাবে মানব সমাজে ধর্মের আর্বিভাব ঘটে। দেখা যায় প্রত্যেক ধর্মেই বলা হয়েছে স্রোষ্টা অদৃশ্য, তাঁর কোন আকার নাই,তিনি খাদ্য গ্রহন করেনা,ঘুমায় না,তাঁর কোন শরিক নাই, তিনি সর্ব শক্তিমান লালনকর্তা, পালনকর্তা ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু ঐ সময়ে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না বলেই চলে। তবুও বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন্ ভিন্ন জনপদে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও উপাসনা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষায় পালন করা হত। এ ভাবে ধর্মের প্রতি বিশ্বাস, উপাসনা ,চর্চা এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ইহকাল, পরকাল ঈশ্বরের অলৌকিক শক্তির ইত্যাদি বিষয়ে প্রচার প্রসার ঘটাতে শুরু করে।যুগে যুগে ধর্ম অবতারদের প্রচারিত বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে মানুষ অঞ্চল ভেদে নানা আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্ম পালন করে আসছে।এবং সকল ধর্মই এক অদৃশ্য অলৌকিক শক্তির প্রতি অস্থাবান ও বিশ্বাসী।

অপর পক্ষে এক শ্রেণীর মানুষ আছে,যারা ধর্মের উক্ত মতের সাথে এক মত নয়। তাঁদের মতে, এ মাহবিশ্বে যা কিছু ঘটছে তার সকল কিছু প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবেই ঘটছে।কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলে প্রাকৃতিক শক্তি কি?

এ ব্যাপারে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে গবেষণা,অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরে বিশ্বসী না এমন এক শ্রেণীর মানুষ। তাঁদের এতো দিনের গবেষণা লব্ধ ফলাফলে তাঁরা এ কথা বলছেন যে,প্রাকৃতিক শক্তি হল এক প্রকার অন্ধকার শক্তি। সম্প্রতি কালে পদার্থ বিজ্ঞানের জনক বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইনের ঈশ্বরের প্রতি চিঠি মিডিয়ায় প্রচার করা হয় উক্ত চিঠিতে তিনি বলেছেন,ঈশ্বর ভাবনা বিষয়টা একটি কাল্পনিক বিষয়।

সম্প্রতি কালে আরও এক জন পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর বোস বলেছেন, ঈশ্বর কণা পাওয়া গেছে। বিগব্যাং এর তথ্যেও ঈশ্বরের অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রামান্য চিত্র নানা ভাবে প্রচার করা হচ্ছে।বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষ্ক বিজ্ঞানী ষ্টিফেন হকিং এর ব্লাক হোল ত্তত্বও প্রাকৃতিক শক্তিকে অন্ধকার শক্তির দিকেই ইঙ্গিত করে।

তবে এ বিতর্ক সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত চলে আসছে হয়ত ভবিষ্যৎ দিনেও চলতে থাকবে।সর্বপরি আমি ধর্ম আর প্রকৃতিবাদিদের একটা জায়গায় মিল খুজে পাই তা হল,ধর্মের বিশ্বাস অদৃশ্য শক্তিতে আর প্রকৃতিবাদিদের বিশ্বাস অন্ধকার শক্তিতে আমার কাছে মনে হয় দুইটা বিষয় মূলত একই শুধু মাত্র ব্যক্তি বিশেষে দৃষ্টি ভঙ্গীর পার্থক্য।

লেখক ও কলামিষ্ট

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *