উত্তরাঞ্চলে চারলেন সড়ক নির্মাণে গতি ফিরেছে

বগুড়া প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদের পাশাপাশি অর্থনৈতিক গতি বাড়াতে উত্তরাঞ্চলে চারলেন সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টম্বরে। ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের কাজে ইতোমধ্যে নকশা পরিবর্তন ও উপকরণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিসহ সময় বাড়ানো হয়েছে আরো ৩ বছর ৪ মাস। ২০১৯ সালের জুনে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় পিছিয়ে পড়ে সড়ক নির্মাণের কাজ।

তবে এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে রাস্তার কাজ পিছিয়ে পড়লেও আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে । ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজে গতি ফিরে আসায় ২০২৩ সালের শেষে রাস্তার দুই পাশে সার্ভিস লেনসহ চারলেনের সুবিধা পাবে জনগণ।

করোনার ধকল কেটে উঠার পাশাপাশি ইউক্রেন—রাশিয়া যুদ্ধ উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে বিটুমিনসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর সংকট সৃষ্টি করলেও কাজ শেষ হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি। রংপুর অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে।

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুরের মর্ডান মোড় পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটারের বেশি এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জুনে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সনাক্ত হবার পর লক ডাউনের কারণে সংকট দেখা দেয় পাথর ও বিটুমিনসহ সব ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর। আর এ অবস্থায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলে বাড়ে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়।

বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকার মো: ইসমাইল আকন্দ জানান, ‘কয়েক মাস যাবৎ মহাসড়কের কাজ খুব দ্রুত গতিতে হচ্ছে। তবে শুরু থেকে কাজের গতি এমন হলে অনেক আগেই যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ সুবিধা পেত। আর এভাবে কাজ হলে আশা করা যায় তাড়াতাড়ি রাস্তার কাজ শেষ হবে।’
একাধিক যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘রাস্তার দুই পাশে চলাচলের ব্যবস্থা করায় যানজটের সৃষ্টি হয় না। আর বেশিরভাগ এলাকায় ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ শেষ হওয়ায় সড়কে দূর্ঘটনাও অনেক কমে গেছে।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৯ মিটার প্রসস্থ মূল ৪ লেনের পাশাপাশি দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী ৪ দশমিক ২ মিটার থেকে ৭ মিটারের বেশি সার্ভিস লেন নির্মাণের কাজ এগিয়েছে অনেক।
এ বিষয়ে সাউথ এশিয়া সব রিজিয়নাল ইকোনোমিক কো—আপারেশন (সাসেক—২) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো: ওয়ালিউর রহমান জানান, সাসেক ২ প্রকেল্পের কাজ চলমান আছে। মোট ১১টি প্যকেজ রয়েছে তার সবগুলোই চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। তবে মাঝে কোভিড এর কারণে কিছুটা কাজের ব্যাঘাত ঘটে। ঠিক এর পরপরই ইউক্রেন—রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশেষ করে, নির্মাণ কাজের সামগ্রির দাম বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন পর্যন্ত সেটি হলো বিটুমিনের বড় সংকট রয়েছে। যেহেতু সব ধরনের কাজ হয়ে গেছে সুতরাং মূল কাজ বাকী আছে শুধুমাত্র বিটুমিনের কারণে। যদি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিটুমিন পাওয়া যায় তাহলে দ্রুতই যাতাযাতের জন্য রাস্তা খুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে জনগণ চারলেনের সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে এখনও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা হওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে এ সব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ১২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে বর্তমান হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। তবে এ টাকার মধ্যেই সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে হচ্ছে দৃষ্টি নন্দন একটি ইন্টার সেকশন। ২০২২ সালে এ প্রকল্প শেষ হবার কথা থাকলেও পুরোপুরি কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!