ঋনের দায়ে আইসক্রিম কারখানায় ‌ চায়ের দোকান বসিয়েছেন মালিক

সংবাদদাতা:  বছরের এই সময়ে ভরপুর ব্যস্ততায় মুখরিত থাকার কথা ছিল আইসক্রিম কারখানাগুলো অথচ বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ চার মাস বন্ধ রাখতে হয়েছে তাদের উৎপাদন। সরকারি শিথিলতার পরেও ঋনের দায়ে পুনরায় চালু করতে পারেনি কিছু কিছু কারখানা।

কাঁধে বিরাট এক ঋনের বোঝা চাপিয়ে নিজের কারখানাতেই চায়ের দোকান দিয়ে চা বিক্রি করছেন পাবনা জেলার আতাইকুলা গঙ্গারামপুর বাজারের নিউ রুচি মিল্ক সুপার আইসক্রিম মালিক সিদ্দিকুর রহমান।

এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিক বলেন তিন বছর আগে অনেক আশা করে ব্রাক ও আশা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করে এই ব্যবসায় দুই বছর মোটামুটি ভালো মুনাফা করলেও এবার করোনার কারণে কারখানা বন্ধ। ফ্যাক্টারির ডিপ ফ্রিজ বিক্রি করে কিস্তি পরিশোধ করতিছি, এমনকি সাতজন পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাড় করতে মিলের ভিতরে চায়ের দোকান দিয়ে উপার্জন করে খাচ্ছি। আমার ছয়জন শ্রমিক এখন বেকার বসে আছে অন্য কারখানা থেকে আনা আইসক্রিম বেঁচে তিনজন ভ্যান চালক কোনমতে সংসার চালাচ্ছে।গরমের মাস চারেক ব্যবসার উপর নির্ভর করে সারা বছর চলে তার।

আয় না হলেও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। দিনে কম করেও দশ হাজার টাকার আইসক্রিম বিক্রি হত, কিন্তু তা হচ্ছে না।’ আগামী দিনগুলোয় কী ভাবে সংসার চলবে তা ভেবে মাথায় হাত পড়েছে সিদ্দিকের। এদিকে দেশের করোনা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষের মনে এখনো ভয় রয়ে গেছে আইসক্রিম কিনতে চাইছে না ।

ফলে উৎপাদন করতে চাইলেও বিক্রি করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সারাদিন ধরে ঘুরে ঘুরে ভ্যান চালক বেলাল মাত্র দুই শত টাকার আইসক্রিম বিক্রি করেছেন বলে জানান। বেলাল বলেন দেখেন ভাই একজন শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা সারাদিন ধরে বেঁচে হলো ২০০ টাকা কনতো ভাই আমিই বা কি নেব আর মহাজনেক কি দেব?

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *