একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড নতুন আক্রান্ত ২৫৪৫, প্রাণহানি ৪০

এফএনএস: দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাসে। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এতে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫০ জনে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৫৪৫ জন। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪৭ হাজার ১৫৩।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি নতুন যুক্ত দুটিসহ মোট ৫২টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ২২৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো তিন লাখ আট হাজার ৯৩০টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৫৪৫ জনের দেহে।

এটি এ যাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ফলে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ১৫৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪০ জনের। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪০৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল নয় হাজার ৭৮১ জনে। নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব পাঁচজন, চল্লিশোর্ধ্ব ১১ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব আটজন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব চারজন মারা গেছেন।

এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে আটজন, খুলনা বিভাগে দুইজন, রাজশাহী বিভাগে একজন এবং রংপুর বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন মারা গেছেন। যা একদিনে যৌথভাবে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। নয় হাজার ৯৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও এক হাজার ৭৬৪ জনের দেহে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং রোগী শনাক্ত বেড়ে হয়েছে রেকর্ড। ৩০ মে’র আগে আরও একদিন ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে তথ্য জানানো হয় গত ২২ মে’র বুলেটিনে।

এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড হয়েছিল দুই হাজার ৫২৩ জনের। সে তথ্য জানানো হয়েছিল ২৯ মে’র বুলেটিনে। ডা. নাসিমা বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকারের দেয়া সাধারণ ছুটি পরবর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সকল স্থাপনা, প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে থার্মোমিটার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও যথেষ্ট পরিমাণে জীবানুণাশক কর্তৃপক্ষকে রাখতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে লকডাউন পরবর্তী গাইডলাইন দেয়া আছে।

আপনারা জানেন- আমাদের লকডাউন উঠে গেছে। আমরা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু সাবধানতা অবশ্যই পালন করতে হবে। সে বিষয়ে আমাদের লকডাউন পরবর্তী গাইডলাইন যা ডিজিএইচএস (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) বা স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে করোনা বিষয়ক গাইডলাইনে ‘কোভিড-১৯ মহামারি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কারিগরি নির্দেশনা’ শীর্ষক একটি গাইডলাইন রয়েছে। নাসিমা সুলতানা বলেন, আপনারা সকলেই এই গাইডলাইনটি দেখবেন। কারণ লকডাউন পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এ গাইডলাইনের নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলো।

লকডাউন পরবর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সকল স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক ও ব্যবস্থাপকদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যেমন- থার্মোমিটার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, যথেষ্ট পরিমাণে জীবানুণাশক- এগুলো থাকতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া আরেকটি বিষয়ে বলব- প্রত্যেকেরই সঠিকভাবে মাস্ক পরা অত্যাবশ্যক।

অবশ্যই প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে ও সঠিকভাবে পাস (অতিক্রম) করতে হবে। এ বিষয়ে আপনারা সতর্ক ও সচেতন থাকবেন। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে রাজধানীতে আরও দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর একটি চালু হয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে, অপরটি বেসরকারি ডিএনএ সলিউশন লিমিটেডে।

এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে ল্যাবের সংখ্যা দাঁড়াল ৫২টি। এদিকে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ফোন দিয়ে খোঁজ-খবর নিতে এবং পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ, বাসা জীবাণুমুক্ত করাসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিতে নতুন সেবা চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখা। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিডিসি শাখা একটি সেবা চালু করেছে, যার নাম সিডিসি কেয়ার ফল অল, সিডিসি আছে আপনার পাশে। যদিও এখন খুবই স্বল্প পরিসরে এই সেবাটি চালু হয়েছে। সেবাটি হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের সাথে কথা বলা। বাসায় অবস্থান সময়ে তাদের অসুস্থতা সংক্রান্ত পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ কিংবা বাসা জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াটিও তারা জানিয়ে দিচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে তাদের (সিডিসির) ফোন নম্বরগুলোতে কেউ ফোন করবে না। কিন্তু তারাই (সিডিসি) আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর, যা পরীক্ষা রেজাল্টের সাথে থাকে- ফোন করে এই সেবাগুলো দিয়ে থাকবে। তারা শুধু প্রথম দিন ফোন করবেন না, যিনি আক্রান্ত তার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য সিডিসি এই সেবাটি সপ্তম দিন ও ১৪তম দিনেও ফোন করে তাদের খোঁজ-খবর নেবে। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, সিডিসির এই কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে রবি টেলিকম। তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার মিনিট ফ্রি কল সুবিধাসহ সিম ও ১০টি মোবাইল ফোন প্রদান করেছেন।

আমরা অনেক ধন্যবাদ জানাই রবি টেলিকমকে এই সহযোগিতা দেয়ার জন্য। তিনি বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান। চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ লাখ ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার। তবে সাড়ে ২৭ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *