‘কতো ভোট আইলো-গেলো, বিরিজ হোলে লয়’

বিশেষ প্রতিবেদক: মেলা দিন ধইরে শুনতিছি এহেনে বিরিজ (ব্রিজ) হবি। এমপি, চিয়েরমেন-মেম্বর সগলেই (সবাই) ভোট আলি পারে কথা দেয়, জিতলি বিরিজ (ব্রিজ) করবি। কতো ভোট আইলো-গেলো, বিরিজ হোলে লয়! আমাগারে কষ্ট দেখার মানুষ নাই। এভাবেই আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিন্যাবাড়ি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মমতাজ আলী।

শুধু মমতাজ আলী নন, ধানকুনিয়া-বিন্যাবাড়ি পয়েন্টে গুমানী নদীর ওপর একটি ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগের শিকার হয়ে এমন আক্ষেপ আশে পাশের ১৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্্েরাতস্বিনী গুমানী নদীতে খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। মাঝে মধ্যেই ঘটে দূর্ঘটনা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সেখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত শুধু আশার বাণীই শুনেছেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গুমানী নদীর দুই পাড় মিলিয়ে বাস করেন প্রায় ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এরমধ্যে রয়েছে, বিন্যাবাড়ি, গৌরনগর, করিমপুর, বহরমপুর, চিনভাতকুর, বনমালী, বরদানগর, লাঙলমোড়া, নবীণ-চরনবীণ, ইসলামপুর, ধানকুনিয়া, নটাবাড়িয়া (আংশিক) কুকড়াগাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। ওই এলাকায় রয়েছে ধানকুনিয়া হাট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধানকুনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুস সাত্তার প্রি-ক্যাডেট কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, আল মদিনাতুন উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিস।

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য বর্ষকালে খেয়া নৌকায় এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকোয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার কর্মজীবি মানুষ। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য হাটে-বাজারে নিতে পারেন না সময়মতো। সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হন প্রসুতি মায়েরা। প্রসব বেদনা উঠলে হাসপাতালে যাওয়ার সময় খেয়া নৌকার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নদীপাড়ে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এছাড়া গ্রামের সব রাস্তা রয়ে গেছে এখনো কাঁচা। দেশব্যাপী বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও উপরোক্ত গ্রামগুলোতে রাস্তাঘাট পাকাকরণ হয়নি। গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতে পারে না কোনো যানবাহন। বর্ষকালে পায়ে হেঁটে রাস্তাগুলো দিয়ে যাতায়াত করাই দুরুহ হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

ধানকুনিয়া গ্রামের ফিরোজুর রহমান, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, জন্মের পর থেকেই শুসে আসছি ধানকুনিয়া-বিন্যাবাড়ি পয়েন্টে ব্রিজ হবে। বর্ষকালে আমাদের এলাকার মানুষের কেমন কষ্ট হয় এটা নিজের চোখে কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার বলা হয়েছে কিন্তু তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, ব্রিজ বা রাস্তা হয়নি!

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। সেখানে একটি সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। তাই প্রকল্পে অর্ন্তভুক্তির জন্য ঢাকায় এলজিইডির সদর দপ্তরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, নদীর পাড়ে আমারও বাড়ি। আমি নিজেও ভুক্তভোগী। তবে এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এমপি মহোদয়সহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, আমি সদ্য এ উপজেলাতে যোগদান করেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!