করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৬০ লাখ ছাড়াল

বিদেশ : মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় অনেকগুলো রাজ্যে নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। রয়টার্সের টালি অনুযায়ী রোববার দেশটি দুঃখজনক এ ফাইলফলক পার করেছে। সম্প্রতি আইওয়া, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটা দৈনিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।

মন্টানা ও আইডাহোতে এখন রেকর্ড সংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তুলনামূলভাবে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেলেও মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে নতুন ‘হটস্পট’ দেখা দিতে শুরু করেছে। আইওয়ার যেসব কাউন্টিতে আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আইওয়া রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, নতুন আক্রান্তের অনেকগুলো ঘটনাই সেখানে ঘটেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর ওই কাউন্টিগুলোর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

এতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দূরশিক্ষণে (অনলাইন) পড়াশুনা চালানোর ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নিউ ইয়র্ক রাজ্যের নিউ ইয়র্ক রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়েও গত সপ্তাহে শরৎকালীন ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। পরীক্ষায় শতাধিক শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার পর শিক্ষা কার্যক্রম দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। সাউথ ডাকোটার স্টারজিস শহরে একটি বার্ষিক মোটরসাইকেল র‌্যালির পর পুরো মধ্যপশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সংক্রমণ বেড়ে যায়। ৭ থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই র‌্যালির জন্য সারা দেশ থেকে তিন লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি লোক এসে জড়ো হয়েছিল।

আট মাসেরও বেশি সময় মহামারী কবলিত হয়ে থাকার পরও করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে। গত সপ্তাহে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নতুন গাইডলাইন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও অন্তত ৩৩টি রাজ্য। ওই গাইডলাইনে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরও যাদের মধ্য রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়নি তাদের পরীক্ষা না করলেও চলবে এমনটি বলা হয়েছিল।

কিন্তু রোগ বিস্তারের গতি হ্রাস করার জন্য করোনাভাইরাস বাহকদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষা আরও বাড়ানো দরকার বলে মত জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের। রয়টার্সের টালি অনুযায়ী, নথিবদ্ধ আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে শীর্ষে থাকলেও মাথাপিছু আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি দশম স্থানে আছে। ব্রাজিল, পেরু ও চিলিতে সংক্রমণের হার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যায়ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে শীর্ষে আছে।

মোট মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও মাথাপিছু মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১১ নম্বরে; এ ক্ষেত্রে সুইডেন, ব্রাজিল, ইতালি, চিলি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, বেলিজিয়াম ও পেরু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে আছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *