করোনার ভয়ে’ লোক হয়নি ট্রাম্পের জনসভায়

বিদেশ: করোনা আক্রান্তের ভয়ে’ বেশি লোকসমাগম হলো না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসসভায়। আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মহামারির মধ্যেই ওকলাহোমার তুলসায় শনিবার নিজের প্রথম নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেছিলেন দ্বিতীয় মেয়াদের প্রত্যাশী ট্রাম্প। গত মার্চে দেশটিতে লকডাউন শুরুর পর এই প্রথম জনসভায় বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প। এদিকে নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প করোনা রোগী যাতে বেশি শনাক্ত না হয়, সেজন্য পরীক্ষা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

খবর বিবিসি ও সিএনএনের। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে আশঙ্কায় নির্বাচনী জনসভা আয়োজনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিরোধিতা, এমনকি আদালতে মামলা সত্ত্বেও ওকলাহোমায় শনিবার জনসভা করেন ট্রাম্প। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প টুইটারে লিখেছিলেন, টুলসার ব্যাংক অব ওকলাহোমা সেন্টারের এই জনসভায় অংশ নিতে প্রায় দশ লাখ লোক টিকেট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পর দেখা যায়, ১৯ হাজার আসনের ওই সেন্টারটি পুরো ভরেনি। যদিও ট্রাম্প ভেবেছিলেন, জনসভায় আসা সমর্থক যারা ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে জড়ো হবে, তাদের জন্য আলাদা ভাষণ দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাও বাতিল করতে বাধ্য হন ট্রাম্প। জনসভায় ভাষণে ট্রাম্প করোনাভাইরাসের জন্য দেয়া সতর্কতার মধ্যেই জনসভায় উপস্থিত হওয়া সমর্থকদের ‘যোদ্ধা’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ মানুষের সংখ্যা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি। ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘কট্টর বামদের অসহায় পুতুল’। একই সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশটিতে হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বামপন্থীরাই মূর্তি অপসারণের কাজ করেছে। দেশের কিছু করোনাভাইরাস কেসের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন,একটি খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, যখন অনেক বেশি পরীক্ষা করা হবে, তখন অনেক বেশি আক্রান্ত পাওয়া যাবে। জনতাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, তাইতো আমি বলি পরীক্ষাই কমিয়ে দিন। কিন্তু তারা পরীক্ষার পর পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছে। পরে অবশ্য হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এটি রশিকতা করেই বলেছেন।

এদিকে এই জনসভার কারণে কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ জনসভা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দল জানিয়েছে, এই জনসভা আয়োজনে অংশ নেওয়া তাদের ছয়জন কর্মী করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে আসা সমর্থকদের কোন ধরনের অসুস্থতার জন্য নির্বাচনী প্রচারণা দল দায়ী থাকবে না- মর্মে এক ফর্মে স্বাক্ষর করেই জনসভায় যোগ দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

জনসভা সামাজিক দূরত্ব মেনে করতে হবে- এমন একটি আর্জি শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন দল জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং প্রত্যেককে মাস্ক দেওয়া হবে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২৩ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *