কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি এক্সারসাইজ

স্বাস্থ্য: এহসানুর রহমান: কোমর ব্যথার মেকানিক্যাল কারণগুলোর মধ্যে প্রলাপসড লাম্বার ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক বা পিএলআইডি অন্যতম। আমাদের পিঠ বা কোমর অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় নিয়ে গঠিত, যাকে আমরা কশেরুকা বা ভার্ট্রিব্রা বলি। এই ভার্টিব্রাগুলোর মাঝখানে এক ধরনের কার্টিলেজ থাকে, যাকে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন আঘাতজনিত কারণে, ক্ষয় বৃদ্ধিজনিত কারণে অথবা সঠিক নিয়মে দৈনন্দিন কাজ না করার কারণে লাম্বার ভার্টিব্রার মাঝখানের ডিস্কগুলো বের হয়ে আসলে নার্ভে চাপের সৃষ্টি হয়। তখন এই নার্ভগুলো পায়ের মাংসপেশির যেসব অংশে অনুভূতি বহন করে, সেখানেও ব্যথা শুরু হয়।

নার্ভে চাপের পরিমাণ বাড়তে থাকলে কোমরে তীব্র ব্যথার সাথে ধীরে ধীরে পায়ের আঙুল পর্যন্ত ব্যথা, ঝিঁ ঝিঁ করা, অবশ হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ব্যথা কোমরে না থেকে সরাসরি পায়ে চলে যায়।

মাঝে মাঝে দেখা যায় অনেক রোগীর কোমর বাঁকা হয়ে যেকোনো একদিকে সরে গেছে। যে পাশের নার্ভে চাপ পরে তার অপর পাশে খানিকটা বাঁকা হয়ে হাঁটলে রোগী একটু কম ব্যথা অনুভব করে। দীর্ঘদিন এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একসময় রোগীর দেহ অপর পাশে ডেভিয়েশন বা বাঁকা হয়ে যায়। দেহের যে পাশে ডেভিয়েশন হয়, সে পাশের কাঁধ উঁচু হয়ে যায় এবং শিফটের কারণে অপর পাশের কাঁধ নিচু হয়ে যায়।

এক্সটেনশন উইথ ওভারপ্রেসার
এ ধরনের সমস্যায় সবার আগে রোগীর কোমর বাঁকা বা ল্যাটারাল শিফটকে কারেকশন করতে হবে। এর জন্য ফিজিওথেরাপির বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ম্যানুয়াল ল্যাটারাল শিফট কারেকশন টেকনিক, ম্যানুয়াল শিফট কারেকশন উইথ ওয়াল সাপোর্ট, ব্যানানা শেপ লায়িং ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শিফট কারেকশনের সাথে সাথে লাম্বার এক্সটেনশন ইন লায়িং এক্সারসাইজ চলতে থাকে। প্রয়োজনবোধে একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর লাম্বার ভার্টিব্রার মোবিলাইজেশন করে থাকেন। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন ধরনের কনসেপ্ট ম্যাকেঞ্জি, মলিগ্যান, সিরিয়াক্স ইত্যাদি ব্যবহার করেও চিকিৎসা করে থাকি।
এছাড়া এই সমস্যার জন্য মেরুদ- এবং পিঠ সংলগ্ন মাংসপেশিগুলো শক্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে কোমরের শক্তি কমে গিয়ে লাম্বার ইনস্ট্যাবিলিটি দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে লাম্বো-পেলভিক স্ট্যাবিলাইজেশন, হিপ ফ্লেক্সর ও হ্যামস্ট্রিং এর স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা হিসেবে সমাদৃত। এই অস্বাভাবিক সংকোচন কমানো এবং ব্যথা সাময়িকভাবে কমানোর জন্য রোগীকে থার্মাল থেরাপি হিসেবে হিট এবং কোল্ড থেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে।
ম্যানুয়াল ল্যাটারাল শিফট কারেকশন টেকনিক

যেহেতু প্রতিকার প্রতিরোধ অপেক্ষা শ্রেয়, তাই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চললে পিএলআইডি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে-
দীর্ঘক্ষণ সামনের দিকে ঝুঁকে বসে কাজ করবেন না।

বসার সময় মেরুদ- সোজা রেখে বসতে হবে।
ভারি কোনও জিনিস নিচু থেকে একা একা তুলতে যাবেন না। তুললেও হাঁটু ভাঁজ করে ভারি জিনিস নিজের দেহের কাছে এনে তারপর তুলবেন।
দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

ধূমপান বর্জন করবেন এবং পরিমিত পরিমাণে পানি পান করবেন।
লেখক: ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট,
সি আর পি, সাভার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *