‘খেলা হবে’ শ্লোগান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে-ওবায়দুল কাদের

ডেক্স : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খেলা হবে স্লোগান মির্জা ফখরুলের প্রছন্দ নয়, আরো কারো কারো প্রছন্দ নয়। কিন্তু যে স্লোগান জনগণের প্রছন্দ সেই স্লোগান আমি দিয়ে যাবো। খেলা হবে শ্লোগান জনগণ গ্রহণ করেছে তাই আমি সব সময় এই শ্লোগান দিয়ে যাবে। খেলা হবে খেলা হবে শ্লোগান সারাদেশে

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে।

সোমবার দুপুরে জেলা শহরের শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা করেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদেরের সাথে সম্মেলনে আগত নেতাকর্মীরা শ্লোগান ধরেন খেলা হবে- ডিসেম্বরে খেলা হবে; আগামি নির্বাচনে খেলা হবে; আন্দোলনে খেলা হবে; অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে; টাকা চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে; ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে; হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে; দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে; দু:শাসনে বিরুদ্ধে খেলা হবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি রাতের অন্ধকারে বিআরটিসির গাড়ি পুড়িয়েছে। ঢাকা-সিলেট সড়কে রাতের অন্ধকারে শেখ হাসিনার ভিত্তি প্রস্তর পুড়িয়েছে। ১০ ডিসেম্বর রাজপথ নাকি দখল করবে, ঢাকা দখল করবে ফখরুল সাহেব। আমি বলতে চাই আমাদের নেতাকর্মীরা মহানগর, পাড়া, মহল্লা, জেলা, উপজেলা, থানা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম সব জায়গায় সতর্ক পাহারায় থাকবে। তারা আগুন নিয়ে আসবে, লাঠি নিয়ে আসবে এজন্যই পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করতে চায়। বিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফখরুল বলে খাঁচা।

নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যের কোন বিকল্প নেই, আমাদের অস্থিত্বের জন্য। আমি কারো অন্ধ সমর্থক নই। কাজ করে যারা আমি তাদের পক্ষে বলি। আমি নোয়াখালীর স্বার্থে, রাজনীতির স্বার্থে আমার ভাই আব্দুল কাদের মির্জা ও একরামুল করিম চৌধুরী এমপি কে ক্ষমা করে দিয়েছি। নোয়াখালীতে আমি কোন কলহ রাখতে চাইনা। আমি কলহ মুক্ত আওয়ামী লীগ চাই।

শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্কুল শিক্ষকের ছেলে ১৬ বছর ধরে মন্ত্রী। চট্রগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের মতো পার্টির সাধারণ সম্পাদক আর কেউ নাই। আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কাছে ঋণী। আমি বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার কাছে ঋণী। জেলে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছি। শেখ হাসিনার হাত ধরে উঠতে উঠতে আজ এত উপরে উঠেছি। ১৬ বছর এদেশের মন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য আর কারো নাই।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নোয়াখালী আমার মায়ার শহর। আমার কলেজ জীবন কেটেছে এই শহরে। বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাদের ঘরের হোস্টেলের ১ নম্বর রুমে আড়াই বছর কেটেছে। তখন আইয়ুব খানের এনএসএফ দ্বারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমার গায়েও লাঠির আঘাত লেগেছে।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ এ. এইচ. এম. খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক পৌর মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, এইচ এম ইব্রাহিম, মোরশেদ আলম, মামুনুর রশীদ কিরণ, আয়েশা ফেরদাউস, নোয়াখালী পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু।
সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের নাম ঘোষণা করে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন এ পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগামি ১৭ ডিসেম্বর কাউন্সিলরদের ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!