গাইবান্ধা-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ফজলে রাব্বীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট : গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার রাত সোয়া দুইটার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সাবেক মন্ত্রী ফজলে রাব্বী গাইবান্ধা-৩ আসনের ছয়বারের সাংসদ। তিনি জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। এবার তিনি ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন। বৃহস্পতিবার থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার কথা ছিল।

ফজলে রাব্বী স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণাগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই রাজনীতিকের জন্ম ১৯৩৪ সালের ১ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে। তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানিম্যাল হ্যাজব্যনট্রিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে আমেরিকা সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৬৩ সালে টেকসাস অ্যান্ড এস থেকে এমএসসি এবং ১৯৬৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে অ্য্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন। এখানে কর্মরত থাকাকালে তিনি হাঁস-মুরগির সংক্রামক মরণব্যাধি ‘রাণীক্ষেত’ রোগ নিরসনে নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন। যার ফলে বাংলাদেশে রাণীক্ষেত রোগের প্রকোপ কমে আসে। ১৯৭৬ সালে তিনি ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উলফসন কলেজের ফেলো নির্বাচিত হন।

১৯৮৪ সালে তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি এরশাদ সরকারে ভূমিমন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বারের সাংসদ ছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *