চলনবিলে মাছ ধরা ফাঁদের হাটে বেচাকেনার ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক : “বর্ষা আসতিচে। একোনি তো মানুষ খাদুন কিনবি। আষাঢ় মাসের বৃষ্টিত পানি যেদিক ছুটপি,ডিময়ালা মাছও সেদিক ছুটপি। আর জোলায়, জমির আইল ক্যাটে পানির সোতের মুখি খৈলসুসি,খাদুন,ধুন্দি লাগালিই মাছ পাওয়া যাবি। ইবার ভালোই জুমে উঠিছে বিচাকিনা। আমাগারে মাছধরার যন্ত্ররপাতি ইবার ভালোই চলতিচে। দামও বাড়তিচে। কিন্তু আমাগারে পরতা হোচচে না। আমরা মাছ আর খৈলশুনী বেচোই খাই। তবে এখন কৃষকরাও এই পিশায় চলে আইচে।”

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বিলকুড়ালিয়া বিলপাড়ের জিয়ানী (মুসলমান মৎস্যজীবী) অধ্যুষিত ধরইল গ্রামের সামির আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ভাবেই খৈলশুনী বাণিজ্যের বৃত্তান্ত জানান। রোববার চলনবিলের খৈলসুনি বা খাদুনের সবচেয়ে বড়হাট অমৃতাকুন্ডার রেললাইনের পাশে “খৈলশুনি হাটে” কথা হয় তার সাথে।
ঋতুচক্রে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে এ আষাঢ়েই। নদ-নদীতে নতুন পানি এসে গেছে। সে পানি চলনবিলেও ঢুকতে শুরু করেছে নদী হয়ে। আবার বর্ষাকালের মতোই আষাঢ়ে ঝরো ঝরো বাদলও দিনের মতো বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে এবার একটু আগেই খাল-বিল, ডোবা-জলাশয়-পুকুরে পানি জমতে শুরু করেছে। তাই মাছ ধরার (ফাঁদ) যন্ত্রপাতি বেচাকেনারও আগাম ধুম পড়ে গেছে এবার।
চলনবিল এলাকায় এসব কুঠির শিল্পজাত পন্য বেচাকেনার বৃহৎ হাটটি বসে চাটমোহর রেলবাজারে। সেখানে কথা হয় গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুঁলাই গ্রামের আবদুর রহিমের সাথে। তিনি বলেন, দাম ভালোই উটিচে। যতো বৃষ্টি হবি তত দাম বাড়বি। বড়াইগ্রাম উপজেলার চামটা গ্রামের দবির উদ্দিন বলেন, খাজনা আর বাজনা দিতিই আমাগারে লাভ শেষ। তারপর বাঁশ সুতলীর যে দাম বাড়িচে তাতি কেবল আমাগারে মজুরিডাই থাকতিচে।
কথা হয় চাটমোহরের ধরইল, দিয়ারপাড়া ও লাউতিয়া জিয়ানী পল্লীর জমির আলী, ওমর আলী, রাহাত, রায়হান, মজেনা, ফরিদা ও আনোয়ারার সাথে। তারা জানান, সারা বছরই এসব মাছ ধরার সরঞ্জামাদি বানানি-বিক্রি হয়। তবে বর্ষায় বেশী হয়। আর এ সবই ছোট মাছ ধরার। নানা রকম নাম মাছ ধরার এসব যন্ত্রপাতির। যেমন-খৈলশুনী, ধুন্দি, বৃত্তি, ছোট খাদুন/বড় খাদুন ইত্যাদি। তারা জানান, এসব বানাতে তরলা/জাঁওয়া বাঁশ,তালের প্যাখের আশ, লৈ (জঙ্গলের এক ধরনের লতা), নারকোলের দঁড়ি ও পাটের সুতলি লাগে। নারী-পুরুষ মিলে তারা এসব বানান বলে জানান। ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ-টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে এই হাট থেকে কিনে নিয়ে যায় মাছ ধরার এসব সরঞ্জাম।
সামির আলী বলেন,একটা খৈলশুনী তৈরিতে মজুরি ধরে ৩৫০ টাকা পড়ে, বিক্রি হয় ৪০০-৪২৫ টাকায়। ধুর্›িদ খরচ ১৫০, বিক্রি হয় ২০০, বৃত্তি ৩৫০টাকা খরচ বিক্রি ৪০০-৪৫০ আর বড়খাদুন ৩০০ টাকা খরচ,বিক্রি হয় ৩৫০-৪০০ টাকা। ওমর আলী বলেন, আমাদের মজুরি ধরলে খুব লাভ হয় না। তবে এটা আমারে পেশা তাই বউ-বিটি নিয়ে বানানো হয়। মজেনা খাতুন জানান, আগে আমরাই কেবল এ কাজ করতাম,এখন গেরস্থরও করে। তাই আমারে সমস্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, তবে আমারে জিনিসির কদরই বেশী।
চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের প্রতিটি হাটেই এখন মাছ ধরার এসকল উপকরণ বিক্রির ধূম পড়েছে। াওনকল উপকরণের পাশাপাশি অবৈধ কারেন্ট জাল আর চায়না জালের ব্যাপকতা বেড়েছে। এসকল উপকরণ দিয়ে মা মাছ নিধন চলছে অবাধে।
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *