চলনবিলে রসুন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার চলনবিল এলাকায় পুরোদমে চলছে সাদা সোনা খ্যাত রসুন রোপনের কাজ। কিন্তু গত বছর আবাদকৃত মসলা ফসল রসুনের অস্বাভাবিক দর পতনে কৃষক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। দাম না পাওয়ায় তারা লোকসান গুনে অনেকটাই দিশেহারা। তারপরও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রসুনের ক্ষেতগুলো এখন মুখরিত থাকছে নারী শ্রমিকের কোলাহলে। বাড়তি আয়ের জন্য কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবার জন্য খাবার তৈরী করে নিজেরা খেয়ে গৃহস্থের জমিতে রসুন রোপনে বেরিয়ে পড়ছেন নারীরা। কোলের শিশুও মাঠে নিয়ে এসে ছাতা বা কাপড়ের ছাউনি তৈরী করে বসিয়ে রাখছেন সেখানে।
সরেজমিন গিয়ে চলনবিল এলাকার মাঠগুলোতে চোখে পরে এমন দৃশ্য। চলনবিলের চাটমোহর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, ভাঙ্গুড়া, তাড়াশ, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দশক ধরে বিনা চাষে রসুন আবাদ হয়ে আসছে।
চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের ধানকুনিয়া ও বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর মাঠে নারী শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায় শনিবার।
মৌসুমী নারী শ্রমিক ফাতেমা,রাহেলা, আঞ্জুয়ারাসহ অন্যরা জানান, রসুন রোপনের সময় এ এলাকায় শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সময় ধান কাটা, রবিশস্য আবাদ, ধানের জমি থেকে নাড়া কাটাসহ বিভিন্ন কাজ লেগেই থাকে। পারিশ্রমিক পুরুষের তুলনায় কম হওয়ায় এ সময় কয়েকদিনের জন্য কদর বাড়ে নারী শ্রমিকের। তাই এ সময় মাঠে কাজ করে কিছু বাড়তি টাকা আয় করি যা সংসারে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ভোর ৪ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির রান্নাসহ অন্যন্য কাজ শেষ করে মাঠে যেতে হয়। দুপুরে কিছু সময়ের জন্য বিরতি পাই। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরে আবার রাতের রান্নার কাজে মনোনিবেশ করতে হয়। সারাদিন কাজ করলে পারিশ্রমিক পাই ৩শ টাকা।’
রসুন চাষী আঃ গণি, রব্বান আলী, মতিউর রহমান, আরশেদ আলীসহ অন্যরা জানান, গত বছর রসুনের দরপতনে অনেকেই এবার আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। আকার ভেদে বর্তমান বাজারে প্রতি মণ রসুন পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একসময় রসুন অবাদ করে অনেকে লাভবান হলেও দুই বছর যাবত লোকসান যাচ্ছে কৃষকের। বীজ রসুন ক্রয়, রসুনের কোয়া ছড়ানো, রোপনের জন্য বিঘা প্রতি কীটনাশক, কামলা, রাসায়নিক সার, তিন দফা পানি সেচ, জমি থেকে রসুন উত্তোলন, পরিবহন করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়াসহ অন্যান্য খরচ বাবদ এক বিঘা জমিতে রসুন আবাদে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ২৫ থেকে ৩০ মন রসুন পাওয়া যায়। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী রসুন চাষ করে লাভ তো দূরের কথা অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। তারপরও আগামি বছর যদি দাম বাড়ে এ আশায় আবাদ করছেন তারা। এখন থেকে দুই বছর আগে রসুন ৬ হাজার টাকা মণ হয়েছিল।
গত বছর এ সময় ২ হাজার টাকা মণ ছিল। এবছর ৫শ থেকে এক হাজার টাকা মণ চলছে। কোন কোন বছর রসুনে ব্যাপক লাভ হওয়ায় কৃষক রসুনের আবাদ একেবারে না ছেড়ে একটু কম হলেও ঝুঁকি নিয়ে রসুনের আবাদ করছেন। তবে যারা অন্যের জমি লীজ নিয়ে আবাদ করেন তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানান চাষীরা।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান রশীদ হোসাইনী জানান, চলনবিলের কেবল চাটমোহরে গত বছর ৬ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২শ হেক্টর। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ২ হাজার ১শ ৮০ হেক্টর। রসুন লাগানো কার্যক্রম এখন ও চলমান আছে। তবে দাম কম হওয়ায় পুরো চলনবিল এলাকায় এ বছর রসুনের আবাদ অপেক্ষাকৃত কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *