চাটমোহর বরদানগরে ব্রিজ নেই : ১৫ গ্রামবাসীর ভরসা খেয়া নৌকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাটমোহর : ‘বুঝার বয়েস হওয়ার পরের থেনে দেখতিছি এহেনে বিরিজ (ব্রিজ) নাই। নৌকায় পার হওয়া লাগে। হাট-বাজার, হাসপাতালে আসা-যাওয়া সব কামে কষ্ট হয়। ছাওয়ালপাল স্কুলে যাবের লাগলিও ভয় করে। মাঝে মধ্যি নদীত পইড়ে যায়। এভাবে আর কতদিন চলা লাগবি কিডা জানে। চিয়েরমেন-মেম্বাররা ভোট আসলি কয় বিরিজ (ব্রিজ) করবি, কিন্তুক পরে আর হয়না। আমারে কষ্ট দেহার মানুষ নাই।’-এভাবেই আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন পাবনার-চাটমোহর উপজেলার বরদানগর গ্রামের ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

শুধু ইসমাইল হোসেনই নয় এমন আক্ষেপ ওই এলাকার সাধারণ মানুষের। উপজেলার কাটেঙ্গা-বরদানগর এলাকাসহ আশেপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ একটি ব্রিজের অভাবে খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন দীর্ঘদিন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একপাড় থেকে অপর পাড়ে যেতে গিয়ে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। অথচ সেখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্রিজ নির্মাণ হলে গতি আসবে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে-এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নদীর পূর্বপাড়ে রয়েছে বরদানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরদানগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বরদানগর দাখিল মাদারাসা, বরদানগর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার এবং আর পশ্চিমপাড়ে রয়েছে, দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, হাট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বর্ষকালে নদীতে পানি আসার সাথে সাথে বরদানগর, বিন্যাবাড়ি, লাঙ্গলমোড়া, চরনবীণ, বনমালী নগর, চিনাভাতকুর, বহরমপুর, করিমপুর, গৌর নগর, নিমাইচড়াসহ অন্তত পনেরটি গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরে আসার জন্য দীর্ঘসময় খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। গ্রামগুলোর বেশিরভাগ রাস্তা কাঁচা। একটু বৃষ্টি হলেই ওই রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। অসুস্থ কোনও রোগীকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হয় না। এছাড়া রাস্তা ঘাট না থাকায় কোন যানবাহন ওইসব গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতে পারেনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চেপে শিক্ষার্থীদের নদী পারপার হতে হয়।

আর যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপের কারণে গ্রামগুলোতে দোকানপাট নেই বললেই চলে। নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই অনেক শিশু শিক্ষার্থী দূর্ঘটনার শিকার হয়। কৃষকরা তাদের আবাদকৃত জমির ফসল শহরে আনতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামে বসেই কম দামে বিক্রি করতে হয়। এলাকাবাসী সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ইতিমধ্যে সেখানে ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ জানান, ব্রিজটির ডিজাইনের কাজ চলছে। সেটি শেষ হলেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *