চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ

বিশেষ প্রতিনিধি : চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার কলেজের গাছ কাটার অভিযোগে পাবনা বিচারিক আদালতে দায়ের করা একটি মামলা হাজিরা দিতে গেলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পাবনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা এই মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে অধ্যক্ষকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ১৫ ডিসেম্বর’১৯ তারিখে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ.টি.এম জহুরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ (১৯) এই জামিন আদেশ দেন। রবিবার ছিলো এই মামলার ধার্য তারিখ। একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান মন্ডল মামলাটি দায়ের করেন। কলেজের মোট ২০টি গাছ কেটে অধ্যক্ষ ঈশ্বরদীর নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। ওই মামলার শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এছাড়া তাঁর অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা নিয়েও আদালতে অপর একটি মামলা রয়েছে। একই কলেজের প্রভাষক সরোয়ার হক এই মামলাটি করেছেন।

এদিকে,পাবনার চাটমোহর সকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে স্বপদে বহাল রেখে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির তদন্ত করা অসম্ভব। এ কারণে তাকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত কমিটির এমন মতামত উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইনকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর দেয়া এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মাউশি। তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ,বৈধ নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের আত্তীকরণের অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম (তথ্যছক) অনুসরণও করা হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তথ্যছক ও ফাইলপত্র মাউশিতে পাঠানোর নির্দিষ্ট সময় ছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে মাউশিতে পাঠাননি। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি মতামতসহ প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠিয়েছে। রিপোর্টে তদন্ত কমিটির মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়,‘অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত কাজ করা অসম্ভব। এমনকি কলেজটির সরকারিকরণের অবশিষ্ট কাজ করাও সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তিনি (অধ্যক্ষ) তথ্য বিকৃত করতে পারেন এমন শঙ্কা রয়েছে। অধ্যক্ষ তদন্ত কাজে অসহযোগিতা করেন। তিনি তথ্য-প্রমাণ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সার্বিকভাবে তদন্ত কাজ স্থগিত করার উদ্যোগ নেন। এসব শুধু অসদাচরণ নয় সরকারি কাজে সরাসরি বাধা তথ্য অধিকার আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গতঃ চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানকে দূর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে দীর্ঘদিন ধরেই কলেজের শিক্ষকদের একাংশ আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন,কলেজ সরকারিকরণের পর থেকেই অধ্যক্ষ পদসৃজন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন। শিক্ষকদের আত্তীকরণ ফাইল নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না পাঠিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানীমূলক পদক্ষেপ নিতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষকদের নামে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দূর্নীতি,ভুয়া শিক্ষক নিয়োগসহ রকম রকম অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন। সদ্য জাতীয়করণকৃত চাটমোহর সরকারি কলেজের শিক্ষকদের আত্মীকরণের ফাইল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে কিছুদিন ধরেই। শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দূর্নীতি ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেই মুলতঃ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোপূর্বে অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের অপসারণ দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ,মৌন মিছিল,অবস্থান কর্মসূচী,পোস্টারিং করা,লিফলেট বিতরণ,মানববন্ধন,ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *