চীনের প্রভাবে কমেছে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন

অর্থনীতি: বিশ্বজুড়ে অবকাঠামো নির্মাণ এবং অটোমোবাইল শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটছে। করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে নতুন মাত্রায় অগ্রসর হচ্ছে এসব খাত। ফলে চাহিদা ও ব্যবহার বাড়ছে এসব খাতের অন্যতম উপাদান অপরিশোধিত ইস্পাতের। এ কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহারিক ধাতুটির উৎপাদন বাড়ছিল। তবে চীনের উৎপাদন সীমিত করার প্রয়াসে গত মাসে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন কমে যায়। মোট উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশভুক্ত দেশগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রতি মাসে ৬৪টি দেশের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএসএ)। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৮৫ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় বিশ্বজুড়ে সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে উৎপাদন বড় পরিসরে কমলেও অন্যান্য অঞ্চলে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে।চীন বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। আগস্টে দেশটির উৎপাদন টানা তিন মাসের মতো কমে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেইজিং। এরই অংশ হিসেবে বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। ডব্লিউএসএর দেয়া তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত ইস্পাতের অর্ধেকেরও বেশি আসে চীন থেকে। আগস্টে দেশটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ওই মাসে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩২ লাখ টনে। এ ছাড়া জুলাইয়ের তুলনায়ও উৎপাদন কমেছে। তবে টানা তিন মাস উৎপাদন কমলেও বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির উৎপাদন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটি ৭৩ কোটি ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছর যে পরিমাণ ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল তার সমপরিমাণ অথবা তার চেয়ে কম ইস্পাত উৎপাদন করতে চায় চীন। উৎপাদন সীমিত রাখার মূল উদ্দেশ্য বায়ুদূষণ এবং আকরিক লোহাসহ অন্যান্য কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। জুলাইয়ের শুরু থেকেই ইস্পাত কারখানাগুলোকে উৎপাদন ও সক্ষমতা কমিয়ে আনার ব্যাপারে চাপ দিচ্ছে চীন সরকার। দেশটির কার্বন নিঃসরণের মূল উৎস ইস্পাত শিল্প। স্থানীয় কার্বন নিঃসরণের ১৫ শতাংশই এ খাত থেকে আসে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় দেশটি। এশিয়ার অন্যান্য শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারত। বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। আগস্টে ভারত ৯৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর অন্যান্য খাতের মতো ইস্পাত শিল্পও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। তবে অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করায় লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনৈতিক কার্মকা-। এ কারণে দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ইস্পাত শিল্পে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ জাপানে উৎপাদন ২২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৭৯ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। মূলত শিল্প খাতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনে উল্লম্ফন দেখা দেয়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬২ টনে পৌঁছেছে। তবে এসব দেশে প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মোট উৎপাদন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। অঞ্চলভুক্ত দেশগুলো আগস্টে ১১ কোটি ২৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। মূলত চীনের উৎপাদনে ধসই এর পেছনে দায়ী বলে জানায় ডব্লিউএসএ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *