চোখের জলেও করোনা লুকিয়ে থাকতে পারে?

স্বাস্থ্য: মারণ ভাইরাস করোনা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস হাঁচি-কাশি তো বটেই, চোখের জলেও লুকিয়ে থাকতে পারে। জ¦র, কাশি, গলাব্যথার পাশাপাশি কভিডের অন্যতম উপসর্গ ‘পিংক আই’ বা কনজাংটিভাইটিস। বাংলায় যাকে ‘চোখ ওঠা’ বলে।

যদিও এই উপসর্গটি বাকিদের তুলনায় খুবই কম। তবু ডাক্তাররা সচেতন করেছেন। জানিয়েছেন, কারো চোখ লাল দেখলেই সাবধান। তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। চোখ থেকে জল পড়লেও সাবধান। এগুলোও কেভিডের উপসর্গ হতে পারে।

সমস্যা হলো, জুন-জুলাইয়ের এই সময়েই কনজাংটিভাইটিসের বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়। বর্ষা শুরু হলে আরো বাড়বে। এমনটাই জানালেন ভারতের কলকাতার ‘রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথালমোলজি’র সহকারী অধ্যাপক ডা. চন্দনা চক্রবর্তী। তার পর্যবেক্ষণ, ‘কেভিড পজিটিভ রোগীদের ১-৩ শতাংশের কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। চোখ লাল নয়, তবু চোখ দিয়ে জল পড়ছে, এমন ক্ষেত্রেও সাবধান হতে হবে। চোখের জল ধরে নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে। ভাইরাস থাকলে তা ধরা পড়ে যাবে।

একই বক্তব্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চক্ষুবিভাগের প্রধান ডা. সৌম্যস্বরূপ চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি জানালেন, করোনারোগীর ‘ড্রপলেট’-এ ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ, ঘামে ৮০ শতাংশ এবং চোখের জলে ৭০ শতাংশ। সুতরাং চোখের জল ‘কালচার’ করলেও ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়বে।

কনজাংটিভাইটিস ও চোখের জল নিয়ে চীনসহ বহু দেশে গবেষণা হয়েছে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অপথালমোলজিতেও বেশ কয়েকটি আর্টিকল বেরিয়েছে। ডাক্তাররা এখন কনট্যাক্ট লেন্স পরতে বারণ করেছেন। জানিয়েছেন, যাদের চশমা নেই তারা পাওয়ারহীন গ্লাস ব্যবহার করুন। ফেস শিল্ড পরুন। আর ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। আর কোনোভাবেই চোখে হাত দেবেন না।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *