চ্যাম্পিয়নস লিগে থাকছে সিটি

স্পোর্টস: বিশাল এক দুশ্চিন্তার বোঝা বয়ে নিয়ে চললেও ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) তাদের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হবে এবং সিটি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলবে। সোমবার সেটাই হলো, উয়েফার সঙ্গে লড়াইটা জিতেই গেল সিটি। বিবিসি জানিয়েছে, তাদের আপীল গৃহীত হয়েছে। ইংলিশ ফুটবল ক্লাবটির ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার ওপর থেকে দুইবছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানাও করা হয়েছিল ক্লাবটিকে।

জরিমানা অবশ্য বহাল আছে, তবে তা কমিয়ে করা হয়েছে ১০ মিলিয়ন ইউরো। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আর্থিক সমতা নীতির (ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে) গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের জন্য ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিষিদ্ধ করে উয়েফা। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ক্লাবটি ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলতে পারতো না। তবে সিটি বরাবরই বলে আসছিল কথিত এই লঙ্ঘন পাঁচ বছরেরও বেশি আগের ঘটনা এবং তারা অনড় ছিল যে কোনও অন্যায় তারা করেনি।

এজন্যই আপিল করে এবং গত মাসে সিএএসে আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকালে সিএএস তাদের রায়ে ঘোষণা করেছে, সিটি তাদের বৈধ তহবিলের বিষয়টি গোপন করেনি, তবে তারা এ বিষয়ে উয়েফাকে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং তাদের বাদ রাখার সিদ্ধান্ত তুলে নেওয়া হলো। কিন্তু জরিমানা কমিয়ে ধরা হলো ১০ মিলিয়ন ইউরো। প্রসঙ্গত, সহযোগিতা করার ব্যর্থতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় না। এই মুহূর্তে এ রায়কে উয়েফা সুইস ফেডারেল কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে না বলেই ধারণা করছে ইউরোপের ফুটবল মহল।

সোমবার সকারে সিএএস রায় প্রকাশ করে জানায়, ‘সিএফসিবি’র (উয়েফার ক্লাব অর্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থা) বিচারিক চেম্বার কর্তৃত উত্থাপিত অভিযোগের বেশিরভাগই হয় সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়নি অথবা সেসবের সময় পেরিয়ে গেছে।’ সিটি সঙ্গে সঙ্গেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা এই রায়ে খুশি এবং আগামী মৌসুমে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে। লিভারপুলের কাছে সিটি এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হারালেও রানার্সআপ যে হচ্ছে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সুতরাং চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা থাকছে গার্দিওলার দলের।

এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে সিটি আগামী মৌসুমেই অনেক খেলোয়াড় হারাতো। দলের সবচেয়ে সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনাই বলে দিয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে সিটিতে আর থাকতে চান না। কারণ তিনি খেলবেন ইউরোপীয় ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!