টানা চতুর্থ দিন তিন হাজারের কম শনাক্ত

এফএনএস: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৬৮৬ জন। এর আগের তিন দিনও শনাক্ত তিন হাজারের নিচে ছিল। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হলেন এক লাখ ৮১ হাজার ১২৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই হাজার ৩০৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬২৮ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৪ জন।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ হাজার ৪৭৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ১৯৩টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো নয় লাখ ২৯ হাজার ৪৬৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও দুই হাজার ৬৮৬ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৮১ হাজার ১২৯ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩০ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩০৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৬২৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ হাজার ৩৪ জনে। এদিকের দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। নতুন করে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ঢাকার পরই সর্বোচ্চ মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ধীরে ধীরে মৃত্যু বাড়ছে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে। তবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে করোনায় মৃতের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০ দশমিক ০২ শতাংশ, চট্টগ্রাম ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, রাজশাহী ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, খুলনা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, সিলেট ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, বরিশাল ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, রংপুর ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ১৮, বাড়িতে ১১ এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন একজন। শুক্রবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩৭ জন। ১৩ হাজার ৪৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও দুই হাজার ৯৪৯ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু- উভয়ই কমেছে। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে।

সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। শনিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, সারাদেশে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন ২৪০ জন। সাধারণ শয্যা খালি আছে ১০ হাজার ৩৬৫টি, তার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৪ হাজার ১১১টি। আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছেন ২২৪ জন এবং খালি আছে ১৫০টি। ঢাকা মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা খালি ৩৭টি এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৮টি।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন ২ হাজার ১৯৪ জন এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১০৫ জন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন ৩৩১ জন এবং আইসিইউতে ২১ জন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা খালি আছে। হাসপাতালে তথ্যের জন্য যোগাযোগের নম্বর- ০১৩১৩৭৯১১৩০, ০১৩১৩৭৯১১৩৮-০১৩১৩৭৯১১৪০।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। করোনাভাইরাসের ছোবলে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে পৌনে ৭৪ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *