টিকটক ছেড়ে দিলেন প্রধান নির্বাহী কেভিন মেয়ার

আইটি: প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই সোশাল ভিডিও অ্যাপ টিকটক ছাড়লেন কেভিন মেয়ার। এ খবর আসার মাত্র একদিন আগেই মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে টিকটকের মামলা করার খবর এসেছে গণমাধ্যম। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, আপাতত টিকটকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন মহা ব্যবস্থাপক ভ্যানেসা পাপাস। টিকটকে যোগ দেওয়ার আগে ডিজনির স্ট্রিমিং সেবার শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মেয়ার। জুনের এক তারিখে টিকটকের প্রধান নির্বাহী এবং টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক পরিবেশে তীক্ষ্ণ পরিবর্তন এসেছে।

ঠিক কী ধরনের কর্পোরেট কাঠামো প্রয়োজন এবং আমার বৈশ্বিক পদবীর জন্য তা কী অর্থ বহন করে, সে ব্যাপারটিতে আমি উল্লেখযোগ্যভাবে আলোকপাত করেছি।” – কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে লিখেছেন মেয়ার। মেয়ার চিঠিতে আরও লিখেছেন, “এরকম একটি পরিস্থিতিতে, যখন আমরা খুব শীঘ্রই কোনো পরিণতির দিকে এগোনোর আশা করছি, তখনই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি আপনাদের জানাতে চাই, প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।” এক ইমেইল বিবৃতিতে মেয়ারের টিকটক ছাড়া এবং পাপাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছে টিকটক।

বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী ঝ্যাং ইমেং এক পৃথক অভ্যন্তরীন চিঠিতে লিখেছেন, “বৈশ্বিকভাবে সম্মুখীন হওয়া সমস্যার সমাধান খোঁজার দিকে দ্রুত এগোচ্ছি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে।” তিনি আরও বলেন, মেয়ার প্রতিষ্ঠানে “নিঃসন্দেহে আমাদের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঢুকেছেন।” “আমরা যেরকম দ্রুত এগোচ্ছি, সেরকম একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া কখনও সহজ কোনো কিছু নয়, তার আসার পরপরের পরিস্থিতি পুরো অবস্থাকেই আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।” – বলেছেন ঝ্যাং। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে তিক্ততা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সামনেই আবার মার্কিন নির্বাচন। এরকম একটি পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ করতে চাইছেন, তিনি চীনের ব্যাপারে কঠোর।

টিকটক প্রসঙ্গে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, প্রথমটিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক, উইচ্যাটসহ অন্যান্য আরও বেশ কিছু চীনা অ্যাপকে মার্কিন ব্যবসা গুটানোর জন্য ৪৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে টিকটকের মার্কিন ব্যবসা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকটক মামলা করেছে প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে। ভারতেও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে টিকটক। দেশটিতে টিকটকসহ মোট ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। ওই মাসে মেয়ার চিঠি লিখে ভারত সরকারকে জানিয়েছিলেন, চীন সরকারকে কখনও ডেটা দেয়নি টিকটক, এমনকি চীন সরকার চাইলেও ডেটা দেবে না প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছরের জানুয়ারিতে টিকটকের মার্কিন মহা ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন পাপাস। তার লিংকডইন অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুসারে, গুগলের ইউটিউবে ক্রিয়েটিভ ইনসাইট বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *