দীর্ঘ দুই বছরেও পাবনায় সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার চার্জশীট হয়নি

নিজস্ব প্রতিবে;ক, পাবনা : দীর্ঘ দুই বছরেও পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক ভুমিমন্ত্রীর পুত্র ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরীফ তমালের নেতৃত্বে সময় টিভির প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদসহ চার সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার অগ্রগতি হয়নি। বার বার দ্রুততম সময়ে অভিযোগ পত্র দেবার কথা বললেও, এখন পর্যন্ত ঘটনার সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে হামলায় তমাল বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হলেও অজ্ঞাত কারণে মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। এ নিয়ে পাবনার সাংবাদিক ও সুধি মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে তারা এই আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন।
জানা যায়, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন উপলক্ষে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ঈশ^রদী উপজেলার রূপপুর আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে ২৯ নভেম্বর পাবনা থেকে সংবাদকর্মীরা রূপপুরে আসেন। ঐদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা আনন্দ র‌্যালী বের করলে ভুমিমন্ত্রী পুত্র শিরহান শরীফ তমালের নেতৃত্বে রূপপুর প্রকল্পের সাইট অফিসের সামনে ঐ মিছিলে হামলা করা হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে সংবাদকর্মীরা এ ঘটনার ছবি ধারণ করতে গেলে ভুমিমন্ত্রীর ছেলের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিকদের উপর হামলা করে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
এ সময় গুরুতর আহত হন, সময টিভি ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’র জেলা প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদ, দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি রিজভী রাইসুল ইসলাম জয়, ডিবিসির জেলা প্রতিনিধি পার্থ হাসান, এটিএন নিউজের ক্যামেরাপার্সন মিলন মাহমুদ।
এই ঘটনায় ডিবিসি জেলা প্রতিনিধি পার্থ হাসান বাদী হয়ে ভূমিমন্ত্রী পুত্র তমালকে প্রধান আসামী করে ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানাতে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ এ ঘটনায় ভুমিমন্ত্রীর ছেলে তমালসহ ১১ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করলেও মামলাটির এখনও চার্জশীট প্রদান করা হয়নি। মামলার আসামীরা সবাই জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকদের উর হামলা মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য পুলিশের অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন পাবনার সাংবাদিক নেতারা।
পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ সভাপতি আব্দুল মতীন খান বলেন, পাবনার চার সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার্জশীট না হওয়া দু:জনক। এ ঘটনার পর পাবনায় নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হয়েছে । রিপোর্টাস ইফনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এসব ঘটনায় দায়সারা তদন্ত করেছে। সাংবাদিক নির্যাতনের মামলা তদন্তে পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক ভাষা সংগ্রামী রণেশ মৈত্র বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রস্তুতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পাবনার চার সাংবাদিককে বেধড়ক মারপিট করার মামলায় দুই বছরেও চার্জশীট না হওয়ায় আমরা হতাশর। এমন চাঞ্চল্যকর মামলার এমন অবস্থাতেই বোঝা যায় পাবনায় সংবাদকর্মীরা কতটা অনিরাপদ।
তবে, বদলী জনিত কারণে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের কারণে মামলার অগ্রগতি হয়নি দাবী করে ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, মামলা হিমাগারে যায়নি। তদন্ত শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির এই মামলার চার্জশীট দেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *