দুই সন্তানকে ‘মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া’ নারীর ৪০ বছরের কারাদন্ড

আর্ন্তজাতিক: গাড়ির ভেতর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রেখে দুই শিশু সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া টেক্সাসের এক নারীকে ৪০ বছরের কারাদ- দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। আমান্দা হকিন্স নামের ওই তরুণীর বিরুদ্ধে তীব্র গরমের মধ্যে এক ও দুই বছর বয়সী দুই মেয়েকে গাড়ির ভেতর ১৫-১৮ ঘণ্টা ফেলে রেখে পার্টিতে আনন্দ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
“ওই ঘটনা না ঘটলে দুই অমূল্য রতœ এখনো আমাদের মাঝেই থাকতে পারত। আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকে পোষা প্রাণীরও এর চেয়ে বেশি যতœ নেয়, যা আপনি আপনার মেয়েদের বেলায়ও নেননি,” বুধবার রায় ঘোষণার সময় আমান্দার উদ্দেশ্যে এমনটাই বলেন বিচারক কিথ উইলিয়ামস।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৭ জুন টেক্সাসের এ নারী তার দুই মেয়েকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
কের কাউন্টির শেরিফ রাস্টি হায়েরহোলজার ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, কাছাকাছি এলাকার একটি হ্রদে ফুলের গন্ধ নেওয়ার পর পড়ে গিয়ে মেয়েদের এমন অবস্থা হয়েছে বলেও সেসময় আমান্দা দাবি করেছিলেন।
তদন্তে এ দাবির অসারতা প্রমাণ হয়। বের হয়, বন্ধুদের সঙ্গে রাতভর পার্টি করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছে করেই মা তার দুই সন্তানকে গাড়ির ভেতর ফেলে রেখেছিলেন।
প্রায় ৩৩ ঘণ্টা গরমের মধ্যে এক বছর বয়সী ব্রিন হকিন্স ও দুই বছরের এডিসন ওভারগার্ড-এডি ১৫-১৮ ঘণ্টা গাড়ির ভেতর আটকে ছিল বলে ভাষ্য তদন্ত কর্মকর্তাদের।
“ওই সন্ধ্যায় একজন গাড়ির ভেতর থেকে তাদের কান্না শুনতে পেয়ে বাচ্চাদেরকে ভেতরে নিয়ে আসতেও বললেও তাতে কান দেয়নি আমান্দা। উল্টো বলেছিল, তারা ঠিক আছে, ঘুমের জন্যই তারা কাঁদছে,” বলেন হায়ারহোলজার।
পরদিন দুপুরের দিকে ঘুম থেকে উঠে ১৯ বছরের এ নারী গাড়িতে রাখা দুই মেয়ের কাছে যান। গরমে নিস্তেজ হয়ে পড়া মেয়েদের তুলতে তিনি গুগলের সাহায্য নিয়ে দুই সন্তানের গায়ে ঠা-া পানিও ঢেলেছিলেন। এরপরই তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
কৌঁসুলিরা জানান. নিজেকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে আমান্দা মেয়েদের অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসক ও পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।
চিকিৎসক জন গেবার্ট ৪০ ঘণ্টা ধরে একটানা জেগে থেকে ব্রিন ও এডিসনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
ব্রিন ও এডিসনের মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও জড়িয়ে গেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পার্টিতে থাকা ফ্রাঙ্ক ঘুমানোর জায়গা না পেয়ে ওই গাড়িতেই কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর বের হওয়ার সময় গাড়ির ইঞ্জিন ও জানালাগুলো বন্ধ করে দেয়।
ফ্রাঙ্কের আইনজীবীরা জানান, ঘুম থেকে উঠে সকালে ফ্রাঙ্ক আমান্দার কক্ষের বাইরে তার নাম ধরে ডাকাডাকি করলেও সাড়া পায়নি। যে গাড়িতে ঘুমিয়েছিল, সেখানে যে দুটি শিশুও ছিল এ বিষয়ে ফ্রাঙ্ক অবগত ছিল কিনা, তা জানা যায়নি।
ফ্রাঙ্ক গাড়িটিতে ঘুমানোর আগে ইঞ্জিন বন্ধ না চালু ছিল তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
“সে আমান্দাকে সামন্যই চিনত, সে আসলে ভুল সময়ে ভুল স্থানে ছিল,” বলেন ফ্রাঙ্কের আইনজীবী এলিসন।
রায় ঘোষণার আগে আমান্দা তার দোষ স্বীকার করে বলেছেন, “যা করেছি তার জন্য কোনো অজুহাত চলে না। যে শাস্তিই দেয়া হোক আমি মেনে নেব।”
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গাড়ির ভেতর গরমে গড়ে ৩৮টি শিশু মারা যায় বলে কিডস অ্যান্ড কারস নামের একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বেশিরভাগই অনিচ্ছাকৃত, বলছেন হায়ারহোলজার।
“৩৭ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কাজ করছি, শিশুর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনা আগে দেখিনি,” মন্তব্য এ পুলিশ কর্মকর্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *