দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি শিক্ষা: দীপু মনি

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একটি দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি শিক্ষা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে ‘আমার গ্রাম-আমার শহর-আমার শিক্ষা’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের ১০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ। যে দেশ শিক্ষা খাতে যতো বেশি বিনিয়োগ করেছে, তারা ততো বেশি উন্নয়ন করেছে। তাই আমাদের বাজেট অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা না করে, শিক্ষার লক্ষ্য ঠিক করে প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আনন্দ বিতাড়িত হয়েছে। শিক্ষা হতে হবে আনন্দের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি আমাদের মুখস্ত বিদ্যা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। বাস্তবমুখী ও প্রয়োগিক শিক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো রেজাল্ট করছে, জিপিএ ৫ পাচ্ছে। কিন্তু তারা বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক দুর্বল। সমস্যা সমাধানে তাদের দক্ষতার অভাব দেখা যায়। সুতরাং শিক্ষার কারিকুলামে এ বিষয়গুলো আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষিত পাকিস্তান বাহিনীকে খালি হাতে পরাজিত করেছে আমাদের দেশের ছাত্র জনতা। তাই আমাদের শিক্ষায় অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না এমনটা হতেই পারে না। বিশেষ করে যখন আমাদের নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষক সম্মেলন ২০১৯ আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ। আলোচনায় মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আজকের সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ‘ফিউচার অ্যাডুকেশন অব বাংলাদেশ’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাঁচজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন অতিথিরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *