দেশে করোনায় আরও দু’জনের মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৭০

ডেস্ক : দেশে নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পর একদিনেই নতুন করে নয়জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনের, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭০ জন। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মত নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে নতুন রোগীর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

আক্রান্তদের মধ্যে আরও চারজন সুস্থ হয়ে ওঠায় এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে দেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, আইইডিসআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে। তাদের সবার মুখে ছিল মাস্ক। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে করোনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ জন। মারা গেছেন আটজন। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩০ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশ থেকে ৫৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৩৪টি পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নতুন আক্রান্ত আটজন এবং মৃত দুজনের বিষয়ে তথ্য দেন। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের একজন গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছিলেন। আরেকজন আগেই শনাক্ত হয়েছিলেন। একজন ঢাকার বাইরে একজন ঢাকায়। এই দুজনের মধ্যে একজনের বয়স ৯০ বছর আরেকজনের বয়স ৬৮ বছর। দুজনেই বয়স্ক হওয়ায় তাদের এমনিতেই বেশি ঝুঁকি।পাশাপাশি তারা দুজনেই অসুস্থ ছিলেন। একজনের হৃদরোগ ছিল, তার হার্ট স্ট্যান্টিং করা ছিল। আরেকজনের এর আগে স্ট্রোক হয়েছিল। তিনি বলেন, নতুন শনাক্ত ৯ জনের মধ্যে আটজনকে আইইডিসিআর এবং একজনের বিষয়ে ঢাকার বাইরের একটি গবেষণাগারের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঢাকার বাইরে যিনি পজেটিভ এসেছেন তার নমুনা আবার আইইডিসিআরে পরীক্ষা করা হবে। তার আগে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং সে অনুযায়ী তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হবে। আইইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন আগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তার মানে এই পাঁচজন ইতোমধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন এমন ব্যক্তির পরিবারের সদস্য। দুইজন বিদেশ থেকে এসেছিলেন। বাকী দুজন কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে দুজন শিশু যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে। ৩ জনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ৫০ থেকে ৬০, একজনের বয়স ৬০ থেকে ৭০ এবং একজনের বয়স ৯০ বছর। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এ নিয়ে সুস্থ্য হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ত্রিশ জনে। বাকী ৩২ জনের মধ্যে ১২ জন বাড়ীতে এবং ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, বলেন তিনি। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬৯৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং ২৬০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ১২ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে গেছেন ১৮ জন। ছাড়পত্র পেয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ জন। বর্তমানে ৭২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *