‘নায়ক মোহাম্মদ নাসিমের চির বিদায়’

||এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা ||
শুধু সিরাজগঞ্জই নয় ; পাবনার মানুষের মনের মনিকোঠায় যার নাম চিরদিন স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে তিনি হলেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি পাবনার মানুষের বিপদের বন্ধু, পাবনার উন্নয়নের অগ্রপথিক ও ‘নায়ক’। এ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মোহাম্মদ নাসিমের ছিল অকৃত্রিম বন্ধন। তিনি পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের যে প্রান্তেই রাজনৈতিক সমাবেশে যেতেন, যাওয়ার আগে ঐ জেলার বা উপজেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। এ ছাড়া দলমতের বাইরের সাংবাদিকদেরও তিনি যথাযথ মিডিয়া কর্মি হিসেবে গুরুত্ব দিতেন।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগোযোগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ নাসিমের একক প্রচেষ্টায় পাবনা গ্যাস লাইন সম্প্রসারিত হয়। সরকারের শেষ সময়ে পাবনায় গ্যাস আনায় এখনও পাবনার মানুষ সেই গ্যাসের সেই সুবিধা পাচ্ছে। এ ছাড়া পাবনা টেলিফোন একচেঞ্জকে ৭‘শ লাইন থেকে ১২ হাজার লাইনে উন্নীত করে সকল মানুষের ঘরে ঘরে টেলিফোন সুবিধা পৌছে দেন। পাবনা যুব উন্নয়ন এর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন। এ ছাড়া রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নে নাসিমের ভুমিকা দৃশ্যমান।

তবে ‘নায়ক’ হিসেবে নামের যথার্থতাই প্রমাণ করেছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালে পাবনার বনমালি ইন্সটিটিউটে ‘পাথরবাড়ী’ নাটকে নায়কের অভিনয় করে পাবনা সিরাজগঞ্জসহ সারা দেশে অভিনেতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। অপরুপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী মোহাম্মদ নাসিম ব্যাক্তিগত জীবনে বন্ধুবৎসল, পরোপকারী এবং কঠোর পরিশ্রমি একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন।

১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল বৃহত্তর পাবনা (বর্তমান সিরাজগঞ্জ) জেলার কাজীপুরের সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের জনমগ্রহণ করেন মোহাম্মদ নাসিম। তার বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ এম মনসুর আলী পাবনা জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়ায় তাদের নিজস্ব বাড়ী রয়েছে। এই বাড়ীতেই স্বপরিবারে বসবাস করতেন অ্যাডভোকেট শহীদ এম মনসুর আলী। মোহাম্মদ নাসিমের যৌবনকাল কেটেছে এই বাড়ীতে তথা পাবনা শহরে।

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র এবং ১৯৬৭-৬৮ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত আমোদ প্রমোদ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৭-৬৮ সালের ‘স্বাধীকার আন্দোলনের’ নেতৃত্বের অন্যতম ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি শহরের রাধানগর এলাকার শিক্ষা অফিসার খোরশেদ আলমের কন্যা লায়লা আর্জুমান্দ বীথির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তিতে ‘নকশাল’ পন্থিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পাবনা থেকে পড়াশুনার জন্য ঢাকায় চলে যান।

পরবর্তিতে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। ছাত্রবস্থায় বাবার পাশাপাশি মোহাম্মদ নাসিম বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সন্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তার প্রয়ানে পাবনাবাসী হারালো এক নায়ককে এবং দেশবাসী হারালো এক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকে। লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, স্টাফ রির্পোটার, দৈনিক সমকাল, পাবনা এবং সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *