নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ ; সাংসদ টুকুর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট 

পাবনা প্রতিনিধি : তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বাধাগ্রস্থ করছেন কিনা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ তথ্য জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ নভেম্বর) বেড়া পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাংসদ টুকুর ভাই আব্দুল বাতেনের দায়ের করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সেইসাথে বেড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেন তার নিরাপত্তা চেয়ে আরেকটি রিট দায়ের করেছিলেন। সে বিষয়েও তার নিরাপত্তায় আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল বাতেনের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে রিটের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান ও মুহাম্মদ সাইফুল আলম।
অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বেড়া পৌর নির্বাচনে পাবনা-১ আসনের সাংসদ শামসুল হক টুকুর বড় ছেলে আসিফ শামস রঞ্জন নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন। নিজের ছেলেকে জেতাতে সাংসদ টুকু আচরণবিধি ভেঙে এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচনী সভায় অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় নির্বাচনে সংসদের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে প্রচারণায় অংশ গ্রহণের সুযোগ নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশন গত ১৪ নভেম্বর চিঠি দেয়ার পরেও তিনি এলাকা ছাড়েননি।
নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে তার উপস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেনের সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি তিনি নিজেও আব্দুল বাতেনের এক সমর্থককে ‘দয়ামায়া না করে পিষে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন। যার একটি  ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রীটের আবেদনে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে মহামান্য হাইকোর্ট বেঞ্চ বেড়া পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুর রহমানকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ১৪ নভেম্বর সাংসদ টুকুকে এলাকা ত্যাগের অনুরোধে দেয়া পত্রের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আরেকটি রীটে সাংসদ টুকু ও তার ছেলের সমর্থকদের ধারাবাহিক হুমকি ও হামলায় আব্দুল বাতেন জীবনের নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে নিরপত্তা চেয়ে তার আবেদনের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবি সাইফুল আলম।
পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাংসদ টুকুর ছোট ভাই আব্দুল বাতেন, বড় ভাইয়ের মেয়ে এস এম সাদিয়া আলম, এইচ এম ফজলুর রহমান মাসুদ ও কে এম আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, একের পর এক আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগে সাংসদ টুকুকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধে নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে যাবার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৪ নভেম্বর চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি অসুস্থতার অজুহাতে এলাকা না ছাড়লেও, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকাশ্যে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে প্রভাবিত করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রিটকারী আব্দুল বাতেন বলেন, সাংসদ টুকু এলাকায় থেকে আমাকে ও আমার সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তার কারণে প্রচার প্রচারণার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমি উচ্চ আদালতে দু’টি রিট করেছি।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের বিষয়ে সাংসদ শামসুল হক টুকু বলেন, “আমি এখন ঢাকায় আছি। আমি তো এলাকার মানুষ, আমি যাবটা কোথায়? আমি এখানকার ভোটার। আমি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কোনো কাজ করিনি।’
টুকু বলেন, বেড়া পৌরসভা নির্বাচনের বাইরেও আমার সংসদীয় এলাকার অনেক ভোটার রয়েছে, সাধারণ মানুষ রয়েছে। তারা আমার বাড়িতে আসে। তাদের সাথে আমি মিটিং করি। তাদের এলাকাতেও আমি যাই। এটা তো নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হয় না। এটা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপকৌশল।
বেড়া পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনার পত্র হাতে এসে পৌঁছলে আমরা আদালতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই উত্তর জানাবো। প্রার্থীদের নিরপত্তার আবেদনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, প্রার্থীদের নিরপত্তায় পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করছে। নিবার্চন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে  পুলিশ সব ব্যবস্থা নেবে।
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *