পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন : মানবন্ধনে হামলা

রফিকুল ইসলাম সুইট: দীর্ঘদিন পাবনার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালীরা। এরই প্রতিবাদে শনিবার পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়ীয়া বাজারে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল চরতারাপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ জনগণ। মানবন্ধবে হামলা করে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ গ্রহনকারীরা বলেন, এলাকার প্রভাবশালীরা প্রশাসনের সহায়তায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর গভীর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য নৌকা ও ট্রাক ভর্তি বালু উত্তোলন করছে, এতে সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎতের খুঁটি হুমকির মুখে পড়ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তাই আমরা মানববন্ধন এর আয়োজন করছি। মানববন্ধনে হামলা হলে বিক্ষোভ করে মানবন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরতারাপুর মৌজায় পদ্মা নদীতে প্রায় ৩০-৪০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন তারা শত শত নৌকা ও ট্রাক বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে লাভবান হলেও এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎতের খুঁটি সহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে। এতে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বালু দস্যুরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস করে না। এরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।ওই সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েছে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। এসব এলাকার কোথাও সরকারীভাবে বালুর ইজারা নেই। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এ বালু ভারি যানবাহনের মাধ্যমে বালু পরিবহন করায় এসব এলাকার রাস্তা অকেজ হয়ে পড়েছে। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ করলেও বালু ভর্তি ট্রাকের চাপে কোন রাস্তাই ২ মাসও টিকছে না। গত ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দকৃত ১২টি অবৈধ বালুস্তুপ প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করে প্রশাসন। বালু উত্তোলনকারীরাই জব্দকৃত কয়েক কোটির এ বালু নামমাত্র মূল্যে নিলামে ক্রয় করে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চরতারাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুজানগর উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাস, চরতারাপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন বিশ্বাস, পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য ও সুজানগর উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল প্রমুখ।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, আমার কাছে অভিযোগ কওে নাই। খোজ নিয়ে দেখে খুব শিগগিরই অবৈধ্যভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *