পাবনার চাটমোহরে শ্রেণীকক্ষের অভাবে পাঠদান চলছে বারান্দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ ও বেঞ্চ সংকটের কারণে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয় ভবনের খোলা বারান্দায় মাদুরে বসে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণীকক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। বেঞ্চ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে থাকে। কনকনে শীতের মধ্যে বারান্দার মেঝেতে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ঠান্ডা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। দরজা-জানালার অবস্থাও বেহাল। রয়েছে শিক্ষক সংকট। ফলে বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে যাচ্ছে অনেক শিশু। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন নিশ্চুপ। অথচ উপজেলার মধ্যে ভাল ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে বিদ্যালয়টি।

সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে জানা যায়, চাটমোহর পৌরশহর সংলগ্ন প্রাচীন এই বিদ্যালয়টি ১৯৬৬ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০১-২০০২ অর্থবছরে সেখানে এলজিইডির অর্থায়নে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হয়। স্কুলটিতে সর্বমোট ৩২৭ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। স্কুলের চারটি কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ অফিস বানিয়ে কোন রকমে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক তাদের দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর সকালের শিফটে তিনটি কক্ষে প্রাক প্রাথমিক, ১ম, ২য় ও ৫ম শ্রেণীর এবং বিকেলের শিফটে ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম শ্রেণীর পাঠদান কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা লতিকা সুলতানা বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষ ও বেঞ্চ সংকটের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই শিশু শিক্ষার্থীদের বারান্দায় বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা অচিরেই ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।’ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আরশেদ আলী বলেন, ‘অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে স্কুলটিতে। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও তারা এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেননি। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি আমি পরিদর্শন করে বেশ কিছু সমস্যা নিরুপণ করেছি। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। চাহিদা পেলে স্কুলটিতে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *