পাবনার ৫টি আসনে প্রচারে এগিয়ে আ.লীগ : প্রচার ও সমন্বয় সংকটে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা

রফিকুল ইসলাম সুইট : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার ৫টি নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকেরা ব্যাপক ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে। ব্যাপক গণসংযোগ, মিছিল, মিটিং, লিফলেট বিতরণ, মাইকিংসহ সকল প্রকার প্রচারণা চালচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলাশহর সহ উপজেলা গুলো ব্যাপক আয়োজনে বিজয় র‌্যালী করেছে আওয়ামী লীগের নেতাদের এই বিজয় র‌্যালী নির্বাচনী শো ডাউনে হিসেবে দেখছে ভোটাররা।চাঙ্গা রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থকেরা।
অপরদিকে তুলনামুল অনেক পিছিয়ে আছে ঐক্য ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকেরা। জেলার অধিকাংশ এলাকায় দেখা গেছে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের পোষ্টার,মাইকিং,গনসংযোগ,মিছিল মিটিং কম। এক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে এখনো রয়েছে অনেক দুরুত্ব। ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া নেতারা এখনো মাঠে নামে নাই। মনোনয়ন পাওয়া নেতারা এখানো সমন্বয় করতে পারে নাই অন্য দলের এবং নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। এই নিয়ে অনিশ্চিতা ও শঙ্কায় আছে ৫ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।
জেলার ৫টি নিবাচনী এলাকায় দেখা গেছের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সংকটের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিতার মাঠে নামে নাই। ফলে প্রচরনায় পিছিয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

পাবনা-১ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি। এই আসন থেকে ৮ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারা হলেন -সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোশারফ হোসেন স্কাই, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন, সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, আওয়ামীলীগ নেতা ওবায়দুল হক, সাবেক ছাত্র লীগ নেতা ইব্রাহিম হোসেন মুন ও ফারুক হোসেন। টুকু দলীয় নেতা কর্মীদের সকল দুরুত্ব সরিয়ে মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার করে যাচ্ছেন। অপরদিকে ঐক্যফন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পরা সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড.আবু সাইয়িদ( সাবেক কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা )। বিএনপি’র কিছুটা দেখা মেললেও জামায়াত নেতাদের দেখা মেলছে না। সারা জীবন জামায়াতের বিরুদ্ধে লড়াইকরা এই নেতারা জামায়তের নেতাকর্মীদের সমর্থন পাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠছে। ফলে গণসংযোগ ও প্রচার জনসম্পৃক্তা কম হচ্ছে।

পাবনা-২ : আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবির। এই আসন থেকে ১৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা হলেন- বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা কৃষিবীদ ড. মির্জা এম.এ জলিল, তথ্য ও গবেষণা সদস্য আশিকুর রহমান খান, আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খোন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ উপ-কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ খান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স¤্রাট ইমরান সিরাজ, উপ-কমিটি পেশাজীবি পরিষদের সদস্য ডা. কে এম শফিউল আলম (বাদশা), বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সহ-সভাপতি ড. মজিবুর রহমান, বেড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ উপ-কমিটির সদস্য রফিকুল আলম গাফ্ফার, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সদস্য লিয়াকত আলী তালুকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক একেএম কামরুজ্জামান খান, উপ-কমিটি সদস্য আব্দুল মতীন, মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এম এ আজিজা খানম এরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফিরোজ কবিরকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন- সাবেক সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব (বিএনপি)। বিএনপির অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন- বিএনপি নেতা হাসান জাফির তুহিন, আব্দুল হালিম সাজ্জাদসহ বেশ কয়েকজন। এদেরকে ভোটের মাঠে পাচ্ছে না নেতাকর্মীরা।

পাবনা-৩ : আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মকবুল হোসেন। এই আসন থেকে ১৯ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলীম, সাবেক সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ আলম, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবির, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বাকিবিল্লাহ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন আমির, ফরিদপুর পৌর মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ বায়েজিদ দৌলা বিপু, রবিউল করিম, শহিদুল ইসলাম ফটিক ও গোলাম সারোয়ার এরা প্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মকবুল হোসেনকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম (বিএনপি)। বিএনপির অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন- হাসাদুল ইসলাম হীরা, ফখরুল আজম, হাসানুল ইসলাম রাজা। এদের সবাইকে ভোটের মাঠে না পেয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা।

পাবনা-৪ : আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ। এই আসন থেকে ১৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ভূমি মন্ত্রীর মেয়ে মাহজেবিন শিরিন পিয়া, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপন, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য এ এস এম নজরুল ইসলাম, উপ-কমিটি সদস্য আব্দুল আলীম, জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী মালিথা ও আওয়ামীলীগ নেতা সাহেদ ইমরান। এরা প্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শামসুর রহমান শরীফ কে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব (বিএনপি)। সিরাজুল ইসলাম সরদার (বিএনপি), জামায়াত নেতা আবু তালেব মন্ডল বেশ কিছু নেতা মনোনয় প্রত্যাশী ছিলেন। এদের সবাইকে ভোটের মাঠে পাচ্ছে না নেতাকর্মীরা।

পাবনা-৫ (সদর) আসনে: আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স। এই আসন থেকে ৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খ ম হাসান কবির আরিফ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মানিক ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু। এরা প্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে গোলাম ফারুক প্রিন্স কে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল হুসাইন। ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপি নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মামুনার রশিদ খান। শিমুল বিশ্বাস জেলে থাকায় এবং বিএনপি নেতারা অন্য আসনের প্রার্থী পক্ষে কাজ করায় বিএনপিকে পাচ্ছেন না ইকবাল হোসাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *