পাবনায় দুদকের অভিযানে ফলে হাসপাতালগুলোতে ভিন্ন চিত্র

মোফাজ্জল হোসেন ও আফ্রিদী মিঠুন : পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ আরো দুটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদক ঝটিকা অভিযান চালায়। তার একদিন পরই এসক হাসপাতালে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। সোমবার ২৫০ শর্যা পাবনা জেনালে হাসপাতালে ৪৯জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিচালকসহ ৩৫ জন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেলেও আজ মঙ্গলবার শতভাব উপস্থিতি দেখা গেলো। নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের দাবী এমন অভিযান অব্যাহত খাকলে চিকিৎসা সেবা পাবেন সাধারণ মানুষ। এটি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দাবী তাদের। এদিকে এই অভিযানের ফলে জেলা সিভিল সার্জনেরও টনক নরেছে। তিনি আজ সকাল বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শণ করতে বেরিয়েছেন।
জানা গেছে, সোমবার সকালে পাবনা জেনালে হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল ঝাটিকা অভিযানে গিয়ে ৪৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে সহকারি পরিচালকসহ ৩৫ জন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পায় দুদক। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় চিকিৎসকরা অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে হাসপাতালে অভিযানের অংশ হিসেবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সোমবার সকাল ৯টায় অভিযান যায় দুদকের একটি দল।
আতিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের নিবন্ধন অনুযায়ী আমরা জানতে পেরেছি, এই হাসপাতালে মোট ৪৯ জন চিকিৎসক নিযুক্ত আছে। অভিযানের সময় আমরা মাত্র ১৪ জন চিকিৎসককে উপস্থিত পেয়েছি এবং হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত সহ ৩৫ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। তবে ঘন্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনার সময় সহকারি পরিচালকসহ কয়েকজন চিকিৎসক দেরীতে অফিসে আসেন। কিন্তু তারা দেরীতে অফিসে আসার যথাযথ কারণ দেখাতে পারেননি।
আতিকুর রহমান আরো বলেন, আমরা সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উপস্থিতির হাজিরা খাতা ও ইলেক্ট্রনিক হাজিরার ফলাফল জব্দ করেছি। আমরা চিকিৎসকদের এই অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাবো। সদর দপ্তর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
এদিন পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দলটি আটঘরিয়া ও চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে বেশিরভাগ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা জেনালে হাসপাতালের পরিচালনক ডা. রঞ্জন দত্ত অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা জরুরী রোগী দেখতে ব্যস্ত থাকেন। চিকিৎসকরা প্রায়শই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রথমেই তারা গুরুতর রোগী দেখতে ছুটে যায়। যার কারণে মাঝে মধ্যে চিকিৎসকরা সময়মতো তাদের সরকারি হাজিরা প্রতিপালন করতে পারেননা। আবার অনেকের ব্যক্তিগত কারণেও দেরী হতে পারে। তার মানে এই নয় যে, তারা অনুপস্থিত।
তবে আজ চিকিৎসকদের উপস্থিতি শতভাগ রয়েছেন কারণ হিসেবে তিনি কোন সসুদোত্তর দিতে পারেননি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিভাবকরা আকবর আলী বলেন, সাতদিন আগে রোগী ভর্তি করেছি। গতকাল পর্যন্ত বাহির থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে কিন্তু আজ হাসপাতাল থেকেই ওষুধ দেওয়া হয়েছে তার রোগীকে।
এবিষয়ে পাবনা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. নরেশ মধু বলেন, দুদক থেকে যে অভিযান শুরু হয়েছে এতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দেশে যে উদ্যোগই নেওয়া হয় তার কোন ধারাবাহিকতা থাকে না।
তিনি বলেন, আজ দুদকের অভিযান চলছে কদিন পর আর সেটি খাকবে না। তবে তিনি বলেন, নিয়মিত তদারকির করা হলে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয় সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *