পাবনায় ধ্বংস হতে বসেছে দুইশ বছরের প্রাচীন খ্রিষ্টান কবরস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনা জেলা শহরের পুলিশ লাইনস এলাকা। চারদিকে সীমানা প্রাচীর। এর এক পাশে ঐতিহ্যর স্মারক হয়ে রয়েছে একটি খ্রিষ্টান কবরস্থান। অযতœ অবহেলায় কবরস্থানটি ধ্বংশ হতে বসেছে । ফলে এটি রক্ষার দাবি তুলেছেন খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীরা।
বিষয়টি জানিয়ে পাবনার ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ কতৃপক্ষ গত ৬ মার্চ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তবে এখনও কবরস্থানটি রক্ষায় কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আবেদন পত্রে চার্চ কতৃপক্ষের জানান, খ্রিষ্টান কবস্থানটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। এখানে বৃটিশ খ্রিষ্টান সৈনিক ও বৃটিশ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমাধিস্থ করা হতো। কবরস্থানের কবরগুলি দূর্লভ পাথরে বাধানো ও পবিত্র ক্রুশ সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে অধিকাংশ কবর এখন নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বছর খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিনের পূর্বে কবরস্থানটি পরিস্কার করা হয়। সব শেষ ২০১৮ সালে ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ কতৃপক্ষ জেলা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে কবরস্থানটি পরিস্কার করে। তখনও কবরস্থানটিতে ১১ টি সমাধি দৃশ্যমান ছিল। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারী চার্চ কতৃপক্ষ জানতে পারে কবর স্থানের প্রায় ৯ টির মত কবর ধ্বংস হয়ে গেছে হারিয়ে গেছে সমাধীতে থাকা দামি পাথর। আর বহু আগেই কবরস্থানের মধ্যে তৈরী করা হয়েছে শৈচাগার।
আবেদন পত্রে চার্চ কতৃপক্ষর দাবি, কবরস্থানটি শুন্য দশমিক ২৬২৫ শতক জমির নিয়ে অবস্থিত। সরকারি নথিতে জমিটি কবরস্থান হিসাবেই উল্লেখ করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ব্যবহার্য বলা হয়েছে। কিন্তু কবরস্থানটিতে তাঁরা অবাধ চলাচল করতে পারছে না। লাগাতে দেওয়া হয়নি সাইনবোর্ড।
আবেদন পত্রে চার্চ কতৃপক্ষ কবরস্থনটিতে অবাদে যাওয়া-আসার জন্য একটি পৃথক গেট তৈরি ও করবস্থানটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
পাবনা ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস জানান, করস্থানটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্য। সেখানে যিশুখৃষ্টের পবিত্র ক্রুশ রয়েছে। শুধুমাত্র অবাধ চলাচলের সুযোগ না থাকায় কবরস্থানটি এখন ধ্বংশের পথে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের চালাচলের ব্যাবস্থা থাকলে এটি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ ফেলোশিপের কোষাধ্যক্ষ শ্যামুয়েল বিশ^াস বলেন, আমাদের ব্যবহারের সুযোগ দিলে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি রক্ষা পাবে। ফলে আমরা স্থাপনাটি রক্ষার তাগিতে সেখানে অবাধ চলাচলের সুযোগ প্রত্যাশা করি।
এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম (বিপিএম,পিপিএম) বলেন, করবস্থানটি আগাছায় ঢেকে ছিল। ইতমধ্যেই আমরা আগাছা পরিস্কার করে সেটি দৃশ্যমান করেছি। এখানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কারো যাওয়া-আসা করতে বাধা নেই। প্রয়োজনে জায়গাটুকু ঘিরে ফুলের বাগান তৈরি করা হবে। যেকোন সময় তাঁরা (খ্রিষ্টান সম্প্রদায়) আসা যাওয়া করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, আমাদের বহু ঐতিহ্য ধ্বংশ হয়েছে। কোন ঐতিহ্যই আমরা আর নষ্ট করতে চাই না। অবশ্যই কবরস্থানটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *