পাবনায় ভয়ানক রুপ ধারন করছে করোনা ; ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু দুই , আক্রান্ত ৭৯ জন

রাজিউর রহমান রুমী : পাবনায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভয়ানক রুপ ধারন করছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন দুইজন একজন করোনা পজেটিভ এবং অন্যজন করোনা উপসর্গ নিয়ে। নতুন আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭৯ জন। এর মধ্যে রাজশাহী ল্যাবে ৩১ এবং ঢাকায় ৪৮ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ আসে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পাবনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১৫ জন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পাবনার দুইজন মারা যান। এদের মধ্যে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। আর অপরজন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।

মারা যাওয়া করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি হলেন, পাবনা সদরের লিয়াকত আলী (৬০)। তিনি পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলের অফিস সহকারী ছিলেন। পাবনা শহরের রাধানগর নয়নামতি এলাকার মৃত: আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। সম্প্র্রতি সে জ¦র,সর্দি,কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা পরিক্ষায় তার পজিটিভ আসে। এক পর্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যাক্তি হলেন, পাবনা সদর উপজেলার শালগাড়ি গ্রামের আলতাফ হোসেন (৬২) । ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন করতে পরামর্শ দেয়া হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের লাশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলেও জানান হাসপাতালের এই কর্মকর্তা। পাবনায় এ পর্যন্ত ১৩ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এদের মধ্যে কারো কারো নমুনায় নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে।

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩২ জন সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্ত সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন। সবারই শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত পাবনায় করোনায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৬ এপ্রিল। এদিকে, পাাবনায় করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লেও পিসিআর ল্যাব না থাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জেলার নয় উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে রাজশাহী অথবা ঢাকা। এতে ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে নমুনা দেয়ার পর ফলাফল পেতে সময় লাগছে পাঁচ থেকে দশ দিন পর্যন্ত। আর এই ফলাফল আসতে বিলম্ব হওয়ায় নমুনা দেয়া ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত কি না স্বল্প সময়ে জানতে পারছে না। এতে আরও ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস।

পাবনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে রাজশাহী। এখনো দুই হাজারের উপরে নমুনার ফলাফল আসে নাই। এই ফলাফল আসতে সময় লাগছে নমুনা সংগ্রহের পর পাঁচ থেকে দশ দিন। এ সময়ের মধ্যে নমুনা দেওয়ার পর সম্ভাব্য করোনা রোগীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে। তাদের নেই কোন মনিটরিং। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শরীরে তেমন উপসর্গ না থাকায় অনেকে বুঝতেও পারছেন না তিনি করোনা পজিটিভ কি না। ফলে ওই ব্যক্তি নিজের পরিবারসহ অন্যদের সংস্পর্শে গিয়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন।

পাবনার বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও বীমার শাখা প্রধানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রতিনিয়ত ঝুকি নিয়ে কাজ করছি। নমুনা দিতে গিয়ে দিতে পারছি না। পড়তে হচ্ছে বিরম্বনায়। আমাদের ঘোড়ার মতো এখানে নয় সেখানে পাঠানো হয়। তারপরেও যদিওবা নমুনা দিতে পারি। কিন্ত ফলাফলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ইতি মধ্যে দুটি ব্যাংক এর শাখা লক ডাউন করা হয়েছে। কেউ কোন দ্বায়িত্ব নেয় না এবং সঠিক কথা বলে না। পাবনা মেডিকেল কলেজে অথবা জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব বসিয়ে নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ানো সম্ভব।

পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের ডা. আব্দুর রহিম বলেন, প্রথমদিকে আমাদের নমুনা পাঠানোর একদিনের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে। দিনে দিনে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলাফল আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। জেলায় ল্যাব হলে বেশি বেশি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব স্থাপনের সকল সুযোগ সুবিধা আছে। এ ছাড়াও মেডিকেল কলেজেও ল্যাব স্থাপন করা যেতে পারে। কমপক্ষে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!